


সংবাদদাতা, বোলপুর: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে বিশ্বভারতীতে পালিত হল। শনিবার সারাদিনব্যাপী গানে, পদযাত্রায় ও শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন বিশ্বভারতীর ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপক ও কর্মীরা। একই সঙ্গে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিশ্বভারতীর সকলেই।
এদিন সকালে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের মধ্য দিয়ে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। তারপর বাংলাদেশ ভবন প্রাঙ্গণে ভাষা শহিদের বেদিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হয়। এদিন উপাচার্য একটি রক্তচন্দন গাছও রোপণ করেন। উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ জানান, এই দিনটি আমাদের কাছে অত্যন্ত স্মরণীয়। ভাষা আন্দোলনের শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে পেরে আমরা গর্বিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বহু বছর আগে থেকেই বিভিন্ন ভাষা নিয়ে এখানে কাজ শুরু করেছিলেন এবং বিশ্বভারতী আজও প্রতিটি ভাষাকে সমান মর্যাদা দেয়। বর্তমানে এখানে সাত-আটটি দেশের ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করছেন। তাঁরা সকলেই মাতৃভাষা দিবসে নিজ নিজ ভাষাকে নানাভাবে উপস্থাপন করেছেন।
বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে বলেই আমরা আশাবাদী। বাংলাদেশ সরকার প্রায় ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে যে বাংলাদেশ ভবন নির্মাণ করেছে, তা বর্তমানে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সম্পর্ক আরও মজবুত হলে সেখানে থাকা সংগ্রহশালা পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে আসা সংগীত ভবনের গবেষক ছাত্রী অমৃতা সরকার বলেন, প্রতিদিন মাতৃভাষায় কথা বলা হলেও এই দিনের গুরুত্ব আলাদা। অন্য দেশে দাঁড়িয়েও বাংলা নিয়ে কাজ করতে পারা আমার কাছে গর্বের। ভাষাভবনের গবেষক ছাত্রী অর্পা কুণ্ডু জানান, ২১ ফেব্রুয়ারি এখন শুধু বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বজুড়েই এর গুরুত্ব ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশ আরও উন্নত হোক এবং ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক অটুট থাকুক। এদিন রামপুরহাট মহকুমার বিষ্ণুপুর রসমঞ্জুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘আমি বাঙালি আমি গর্বিত’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা অংশ নেন। এছাড়াও রামপুরহাট মহকুমা তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে টাউনহলে একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।