Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে মাংস বিক্রি বন্ধের নোটিস বিশ্বভারতীর

বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে মাংস বিক্রি বন্ধের নোটিস দিয়েছে। আশ্রম এলাকার স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার জন্য এই পদক্ষেপ। বিস্তারিত পড়ুন।

প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে মাংস বিক্রি বন্ধের নোটিস বিশ্বভারতীর
  • ১০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: শান্তিনিকেতনের শ্যামবাটি এলাকায় প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে মাংস বিক্রি বন্ধের ব্যাপারে কড়া অবস্থান নিল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। বিশ্ব ঐতিহ্য স্বীকৃতি পাওয়ার পর আশ্রম সংলগ্ন এলাকার পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বভারতীর হেরিটেজ বাফার জোনের অন্তর্গত বিশেষ করে উত্তরায়ণ চত্বরের বেড়া থেকে রানি চন্দের বাড়ি সংলগ্ন শ্যামবাটি বাজার পর্যন্ত রাস্তার ধারে বেশ কয়েকটি মুরগি ও খাসির মাংসের দোকান রয়েছে। অভিযোগ, ওই এলাকায় কিছু ব্যবসায়ী খোলা অবস্থায় এবং খাসি দড়িতে ঝুলিয়ে মাংস বিক্রি করছিলেন। কয়েকদিন আগে মাইকিং করে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। জানিয়ে দেওয়া হয়, খোলা অবস্থায় বা ঝুলিয়ে মাংস বিক্রি করা যাবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সম্পূর্ণ ঢাকা দিয়ে ব্যবসা করতে হবে। এবার সেই নির্দেশই সম্প্রতি কর্মসচিবের স্বাক্ষরিত লিখিত নোটিসের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। 

Advertisement

বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, আমরা ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দিয়েছি, ঢেকে মাংস বিক্রি করতে হবে। যেহেতু এটি আশ্রম এলাকার মধ্যে পড়ে, তাই কিছু নিয়ম-নীতি মানা জরুরি।
নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকাশ্যে মুরগি বা খাসির মাংস কাটা ও বিক্রি করা ‘প্রিভেনশন অব ক্রুয়েলটি টু অ্যানিম্যালস অ্যাক্ট-১৯৬০’ এর পরিপন্থী। পাশাপাশি এই ধরনের কার্যকলাপ শান্তিনিকেতন আশ্রমের নীতি, আদর্শ ও ঐতিহ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের দাবি, এ‌ই ধরনের দৃশ্য ছাত্রছাত্রীদের কাছেও সুখকর নয়। এছাড়া আশ্রম এলাকা বর্তমানে বিশ্ব ঐতিহ্য স্থলের মর্যাদা পেয়েছে। এইসব মাংসের দোকানগুলিও হেরিটেজ কোর এরিয়ার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, খোলা অবস্থায় মাংস বিক্রি করলে ধুলোবালি, মাছি এবং দুর্গন্ধের কারণে সমস্যা তৈরি হয়। ওই এলাকায় প্রায় ১০টি খাসি ও মুরগির মাংসের দোকান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাংস কাটা হত। চারপাশে দুর্গন্ধও ছড়াত। তাই আদালতের নির্দেশ মেনে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে কড়াকড়িকে অনেকেই ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
যদিও ব্যবসায়ীদের দাবি, তাঁদের জীবিকা এই ব্যবসার উপরই নির্ভরশীল। এলাকার মাংস ব্যবসায়ী রাজেশ রায় বলেন, প্রথমে নিরাপত্তারক্ষীরা মাইকিং করে জানিয়েছিল খোলাখুলি বা ঝুলিয়ে মাংস বিক্রি করা যাবে না। তারপর থেকেই আমরা সেই নির্দেশ মেনে চলছি। এবার আবার লিখিত নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। আমাদের রুটি-রুজি এই ব্যবসার উপর নির্ভর করে। তবে, প্রশাসন যেটা ভাল মনে করেছে, আমরা সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ