Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

ভিসা বাতিলের নির্দেশ, ওয়াঘা সীমান্তে দেশে ফেরার হিড়িক পাক নাগরিকদের

কারও ভিসার মেয়াদ ছিল ৯০ দিন তো কারও ৪৫ দিন। পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে কেউ কেউ এসেছিলেন দিল্লি বা পাঞ্জাবে, আত্মীয়ের বাড়িতে।

ভিসা বাতিলের নির্দেশ, ওয়াঘা সীমান্তে দেশে ফেরার হিড়িক পাক নাগরিকদের
  • ২৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

চণ্ডীগড় ও নয়াদিল্লি: কারও ভিসার মেয়াদ ছিল ৯০ দিন তো কারও ৪৫ দিন। পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে কেউ কেউ এসেছিলেন দিল্লি বা পাঞ্জাবে, আত্মীয়ের বাড়িতে। পহেলগাঁও হামলার জেরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ভারত ছাড়ার নির্দেশ জারি হয়েছে বুধবারই। তড়িঘড়ি সকলেই দৌড়েছেন আটারি-ওয়াঘা সীমান্তে। বৃহস্পতিবার সেখানে গিয়ে দেখা গেল, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা। একে একে পাক নাগরিকদের নথি পরীক্ষা করে তাঁদের পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার রাস্তা খুলে দিচ্ছেন সেনা জওয়ানরা। পাঞ্জাব বা গুজরাতের অনেক বাসিন্দার আত্মীয়রা রয়েছেন পাকিস্তানে। কারও দিদির শরীর খারাপ। বৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে যাওয়ার জন্য এসেছিলেন। কিন্তু পাকিস্তান সফরে কার্যত নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় তাঁরা আটারি থেকে নিজের রাজ্যে ফিরে যাচ্ছেন।  

Advertisement

বিদেশ মন্ত্রকের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, অবিলম্বে পাক নাগরিকদের ভিসা বাতিল করা হচ্ছে। তাঁরা যাতে দেশে ফিরে যাওয়ার সময় পান, সে জন্য ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত মেয়াদ বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যাঁরা মেডিক্যাল ভিসা নিয়ে ভারতে চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন, তাঁদের ভিসার বৈধ থাকবে ২৯ এপ্রিল পর্যম্ত। একইসঙ্গে পাকিস্তানে যে সব ভারতীয়রা রয়েছেন, তাঁদের সকলকে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তানে সফরের ব্যাপারে ভারতীয় নাগরিকদের বিরত থাকারও পরামর্শ দিয়েছে সরকার। 
এদিন ওয়াঘা সীমান্তে দাঁড়িয়ে পাক নাগরিক শেখ ফজল আহমেদ বলেন, ‘দিল্লিনিবাসী এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে গত ১৫ এপ্রিল করাচি থেকে এসেছিলাম। আমাদের ৪৫ দিনের ভিসা ছিল। কিন্তু এখনই ফিরে যেতে হচ্ছে।’ সেরকমই মনসুর নামে আরও এক পাকিস্তানির বক্তব্য, ‘পরিবারকে নিয়ে ভারতে ঘোরার জন্য এসেছিলাম। আমাদের ভিসার মেয়াদ ছিল ৯০ দিন। তবে হঠাৎ এমনই পরিস্থিতি যে ফিরে যেতে হচ্ছে।’ অবশ্য ফিরে যাওয়ার হতাশা থাকলেও সকলেই বলছেন, পহেলগাঁওয়ে যা হয়েছে তা মেনে নেওয়া যায় না। পাকিস্তানের বাসিন্দা আহমেদ বলেন, ‘পহেলগাঁওয়ের হামলা একেবরেই উচিত হয়নি। আমরা দুই দেশের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্ব চাই। সেখানে হিংসার কোনও জায়গা নেই।’ যদিও অনেককেই বলতে শোনা গিয়েছে, হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দাজনক। কিন্তু তার জেরে সব পাকিস্তানিকেই অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়া হয়তো ঠিক নয়। 
গুজরাতনিবাসী এক ভারতীয় পরিবার করাচি যাওয়ার জন্য আটারি সীমান্তে এসেছিলেন। তবে সরকারি নির্দেশিকা জারি হওয়ায় তাঁরা ফিরে যাচ্ছেন। সেই পরিবারের এক প্রবীণ সদস্য বলেন, ‘দু’মাস আগে আমরা ভিসা পেয়েছিলাম। কিন্তু এখন আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত ভারতীয়দের জন্য পুরোপুরি বন্ধ। তাই আবার বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।’ তাঁদের মতো অনেক ভারতীয়ই এদিন পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য ওয়াঘায় হাজির হয়েছিলেন। ফিরে যাওয়ার হতাশা থাকলেও একযোগে সকলের গলাতেই একই সুর, ‘এবার পাকিস্তানকে কড়া জবাব দিতে হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ