


আমেদাবাদ: পয়মন্ত আঠারোতেই অধরা মাধুরী লাভ বিরাট কোহলির। আইপিএলের ১৮তম আসরে দীর্ঘ কেরিয়ারে প্রথমবার কোটিপতি লিগের খেতাবের স্বাদ পেলেন ১৮ নম্বর জার্সির মালিক। মঙ্গলবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু জয় নিশ্চিত হতেই বিরাট আবেগে ভাসল মোতেরা স্টেডিয়াম। পাঞ্জাব-বেঙ্গালুরুর সমর্থকরাও মিলেমিশে একাকার। ‘কিং কোহলি, কিং কোহলি’ শব্দব্রহ্মে কাঁপল গ্যালারি। মহাতারকার আবেগে সবাই যেন আনন্দ-উল্লাসে মেতেছেন। স্বপ্নপূরণের মুহূর্তে বিরাটের মুখেও হাজার ওয়াটের হাসি। পরক্ষণেই ঝরল আনন্দাশ্রু। মাঠেই ধারাভাষ্যকার ম্যাথু হেডেনকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বিরাট বলছিলেন, ‘এই ট্রফি দলের জন্য যতটা, ততটাই সমর্থকদের জন্য। এই দিনটার অপেক্ষায় আঠেরোটা বছর কেটে গিয়েছে। প্রত্যেক মরশুমে সেরাটা উজাড় করে দিয়েছি। তবুও চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি। অবশেষ ট্রফিটা হাতে পেয়ে যে কী অনুভূতি হচ্ছে ভাষায় বোঝাতে পারব না। কেরিয়ারের শেষ দিন পর্যন্ত আরসিবি’র হয়ে খেলে যেতে চাই।’
কোহলি আর ‘১৮’ যেন একে অন্যের পরিপূরক। তাঁর উত্থান-পতনের অনেক কাহিনিতেই জুড়ে রয়েছে এই সংখ্যা। শুরুটা অবশ্য হয়েছিল ঘোর বিপর্যয়ে। ২০০৬ সালের ১৮ আগস্ট! বাবা প্রেমনাথ কোহলি না ফেরার দেশে পাড়ি দেন। পিতৃশোক নিয়েই সেদিন রনজি ট্রফিতে ৯০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ভিকে, যা ১৮ বছরের তরুণকে ইস্পাত কঠিন করে তোলে। বলা ভালো, তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরে যায় এখানেই। কাকতালীয়ভাবে কোহলির জাতীয় দলে অভিষেকও ঘটে ১৮ তারিখেই। বিশেষ দিনটাকে স্মরণীয় করে রাখতে তিনি বেছে নিয়েছিলেন ১৮ নম্বর জার্সি। শুধু তাই নয় বিরাটের সিংহভাগ গাড়ির নম্বরেও জ্বলজ্বল করছে ‘১৮’। আর আইপিএলের অধরা মুকুটও এল ১৮তম আসরে। আশ্চর্যের বিষয়, ফাইনালের তারিখের (০৩-০৬-২০২৫) সংখ্যাগুলির যোগফলও সেই ১৮। কীসের ইঙ্গিত? মঙ্গলবার আমেদাবাদে মোতেরা স্টেডিয়ামে কোটিপতি লিগের ফাইনালের মঞ্চটাই যেন কোহলির বৃত্তপূরণের জন্যই সাজানো ছিল!
দীর্ঘ কেরিয়ারে ক্রিকেটের প্রায় সব শৃঙ্গই জয় করে ফেলেছিলেন বিরাট। ২০০৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের খেতাব দিয়ে শুরু। এরপর মাত্র ২২ বছরেই দেশের হয়ে ওডিআই বিশ্বকাপের স্বাদ পান তিনি। এছাড়া ঝুলিতে আছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, টি-২০ বিশ্বকাপও। কিন্তু আইপিএলের মঞ্চ তাঁকে বারবার হতাশ করেছে। ২০০৯, ২০১১ ও ২০১৬— তিনবার কাপ ও ঠোঁটের দূরত্ব থেকে সরে যায় ট্রফি। একের পর এক হৃদয় বিদারক মরশুমের পরও তিনি কিন্তু হাল ছাড়েননি। প্রতিবারই লিগ শুরুর আগে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে— ‘ই সালা কাপ নামদে’। কন্নড় এই শব্দগুচ্ছের অর্থ হল, ‘এবার, কাপ আমাদের।’ অবশেষে কাপে চুম্বনের সুযোগ পেলেন মহাতারকা। আর তারপর বললেন, ‘ই সালা কাপ নামদু।’
বিরাটের আইপিএল জয়ের সাক্ষী থাকতে এদিন মোতেরায় উপস্থিত ছিলেন তাঁর বহু যুদ্ধের সৈনিক এবি ডি’ভিলিয়ার্স ও ক্রিস গেইলও। সম্প্রচারকারী সংস্থাকে বিরাট বলছিলেন, ‘এই দিনটার জন্য অনেক অপেক্ষা করেছি। তাই ম্যাচ জেতার পর আবেগ ধরে রাখতে পারিনি। এবি ও ক্রিসের উপস্থিতি মুহূর্তটা আরও স্পেশাল করে তুলল।’