


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শ্যামবাজার এ ভি স্কুলের সামনের ঘটনা। এক নাগাড়ে হর্ন বাজাতে বাজাতে বাইক ছোটাচ্ছিলেন এক যুবক। সেখানেই রেইড চলছিল শ্যামবাজার ট্রাফিক গার্ডের তরফে। নো-হর্ন জোনে অহেতুক শব্দদূষণের জেরে আটক করা হয় বাইকচালককে। অজুহাতের বন্যা বইয়ে দিলেও পুলিশ আধিকারিকরা তাতে কর্ণপাত করেননি। দু’হাজার টাকার জরিমানা করেন উর্দিধারীরা।
মেডিকেল কলেজের বাইরের গেট থেকে কলেজ স্ট্রিট ক্রসিং— গোটা রাস্তাটাই নো-হর্ন জোন। হাসপাতাল থেকে শুরু করে একাধিক স্কুল, কলেজ রয়েছে এই রাস্তার দুপাশে। শব্দদানবের তাণ্ডব রুখতে এই রাস্তার উপরেই চলে কলকাতা পুলিশের অ্যান্টি পলিউশন সেলের বিশেষ অভিযান। সেখানেই উর্দিধারীদের নজরে আসে তিন যুবক তিনটি পৃথক বাইকে হর্ন বাজাতে বাজাতে জয়রাইডে মত্ত। তৎক্ষণাৎ তাঁদের আটক করে জরিমানা করে কলকাতা পুলিশ।
লালবাজারের ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে খবর, প্রতি মাসে শব্দ তাণ্ডবের জেরে পুলিশি জরিমানার সম্মুখীন হচ্ছেন গড়ে ৬০০ জন চালক। নতুন বছরের প্রথম মাসে শব্দদূষণকারী যানবাহন চালকের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৮০০ ছাড়িয়েছে। শেষ এক সপ্তাহে জরিমানার সংখ্যা প্রায় হাজারের কাছাকাছি চলে যেতে পারে বলে দাবি পুলিশের। শহরের হাসপাতাল ও স্কুল এলাকার বাইরে হর্ন বাজানো বন্ধে কলকাতা পুলিশ একটি বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। সেই অভিযান সুফল মিলছে বলে দাবি পুলিশের। অভিযানকে শহরের আরও বিস্তৃত এলাকায় নিয়মিত করার পরিকল্পনা করছে লালবাজার।
পুলিশ জানিয়েছে, শহরে যানবাহন সৃষ্ট শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই অভিযান চালাবে অ্যান্টি পলিউশন সেল। বাকি ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে নজরদারি ও জরিমানার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানীয় ট্রাফিক গার্ডগুলিকে। শহরের সবচেয়ে বেশি হর্ন বাজানোর প্রবণতাযুক্ত এলাকাগুলির মধ্যে শিয়ালদহ, আমহার্স্ট স্ট্রিট, কলেজ স্ট্রিট, এমজি রোড শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এলাকা ছাড়াও হেস্টিংস এলাকা এবং তারাতলা, মাঝেরহাট এলাকা অন্যতম। একাধিক স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকা শ্যামবাজার, পার্ক স্ট্রিট ও পার্ক সার্কাস এলাকাতেও এই বছর শব্দবিধি লঙ্ঘনের বিস্তর ঘটনা ঘটেছে। অ্যান্টি পলিউশন সেল সূত্রে খবর, ‘সমীক্ষা বলছে, শহরের বেশিরভাগ এলাকায় দ্বিচক্র যানের চালকদেরই হর্ন বাজানোর প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। ৮৩ শতাংশ ক্ষেত্রে অহেতুক হর্ন বাজান বাইক-স্কুটার চালকরা। তুলনামূলকভাবে ছোট গাড়ির চালকরা কম হর্ন বাজান। পশ্চিমবঙ্গ মোটর যান বিধি এবং মোটর যান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই অপরাধে ধরা পড়া সব চালককে ২,০০০ টাকা করে জরিমানা দিতে হচ্ছে। শুধু নো-হর্ন জোনে শব্দমাত্রা সীমিত রাখাই নয়, মাল্টিটিউনড হর্ন বা মডিফায়েড সাইলেন্সর ব্যবহার করলেও কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে কলকাতা পুলিশের বিশেষ শাখা। গত এক মাসে শহরে প্রায় ৩৮ জনের বিরুদ্ধে শব্দবিধি ভাঙার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে।