Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

রজনীকান্ত, কমল হাসানকে পিছনে ফেলে দিলেন বিজয়

জনপ্রিয়তার শিখরে থেকেও, নতুন দল গড়ার পর সরাসরি রাজনীতিতে পা রাখার সাহস করেননি ‘থালাইভা’ রজনীকান্ত। কমল হাসানও সাফল্য পাননি।

রজনীকান্ত, কমল হাসানকে  পিছনে ফেলে দিলেন বিজয়
  • ৫ মে, ২০২৬ ০৯:০৫
Prefer us on Google

চেন্নাই: জনপ্রিয়তার শিখরে থেকেও, নতুন দল গড়ার পর সরাসরি রাজনীতিতে পা রাখার সাহস করেননি ‘থালাইভা’ রজনীকান্ত। কমল হাসানও সাফল্য পাননি। ডিএমকের কল্যাণে রাজ্যসভায় গিয়েছেন মাত্র। তাঁর দল কার্যত উঠে গিয়েছে। তাঁরা না পারলেও বয়সে ছোটো ‘থালাপতি’ বিজয় পারলেন। রুপোলি পর্দার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তামিলনাড়ুর মসনদে বসতে চলেছেন ৫১ বছরের এই তারকা। শুধু তা-ই নয়, ভেঙে দিলেন ৪৯ বছরের বাইনারিও। দ্রাবিড়ভূমে সেই ১৯৭৭ সালে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছিলেন সুপারস্টার এম জি রামচন্দ্রন। সেই শুরু। এরপর পালা করে তামিলনাড়ুর ক্ষমতা ভাগাভাগি হয়েছে রামচন্দ্রনের এআইএডিএমকে এবং করুণানিধির ডিএমকের মধ্যে। কখনো মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন করুণানিধি। কখনো জয়ললিতা। করুণানিধির মৃত্যুর পর এম কে স্ট্যালিন ডিএমকের হাল ধরেন। গতবার তিনি মুখ্যমন্ত্রী হন। এবার বিজয়ের তামিলিগা ভেত্তরি কাঝাগমের (টিভিকে) পালা। 

Advertisement

অথচ দু’বছর আগে বিজয় যখন টিভিকে দলের নাম ঘোষণা করেন, তখন পরিস্থিতি এমন ছিল না। অভিনেতা থেকে তাঁর রাজনীতিতে আগমনকে তামিল রাজনীতির পরম্পরা হিসাবেই দেখা হয়েছিল। ধীরে ধীরে নিজের পায়ের মাটি শক্ত করেছেন। বাকিটা ইতিহাস। দল গঠন করেই প্রথমবারেই বাজিমাতের এই নজির ভূ-ভারতে খুব বেশি নেই। ১৯৮৩ সালে দল গঠনের এক বছরের মধ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় অবিভক্ত অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হন তেলুগু দেশম পার্টির প্রধান এন টি রামরাও। ১৯৮৫ সালে দল গঠনের অব্যাবহিত পরেই নির্দলদের সমর্থনে অসমে সরকার গড়ে অসম গণ পরিষদ। ২০১৩ সালে দল গঠনের এক বছরের মধ্যেই দিল্লির ক্ষমতায় আসে আম আদমি পার্টি। সেই তালিকায় জুড়ল বিজয়ের টিভিকের নাম।
তবে ‘স্টার্ট আপ’ দল হিসাবে পরাজয়ের নজিরও বিস্তর। খোদ তামিলনাড়ুতেই গত বিধানসভা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ে অভিনেতা কমল হাসানের দল মাক্কাল নিধি মাইয়াম। ২০২১ সালে খাতাও খুলতে পারেননি তিনি। ভোট কুশলী হিসাবে সারা দেশে সম্ভ্রান্ত নাম প্রশান্ত কিশোর। সেই পিকেও গত বছর বিহার বিধানসভা নির্বাচনে শূন্য হাতে ফিরেছেন। সেই অর্থে একক ক্ষমতায় বিজয়ের টিভিকের তামিলনাড়ু জয় আলাদা তাৎপর্য বহন করে। রাজনৈতিক মহলের মতে, দুই প্রাণপুরুষ করুণানিধি এবং জয়ললিতার মৃত্যুর পর শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছিল তামিল রাজনীতিতে। এআইএডিএমকের মধ্যে আকচাআকচি আর তাদের হাতে ধরে দ্রাবিড়ভূমে বিজেপির প্রবেশের পথ প্রশস্ত হয়েছে। দ্রাবিড় অস্মিতার ধুলোয় লোটার অবস্থা। আর করুণানিধির অবর্তমানে স্ট্যালিন কখনো নিজেকে তাঁর বিকল্প হিসাবে তুলে ধরতে পারেননি। এখানেই বাজিমাত করেছেন বিজয়। বিজয়ের দলের জনপ্রিয়তার আভাস মেলে আরও একটি ঘটনায়। নিজের প্রাক্তন গাড়ির চালকের ছেলে সবরীনাথ আরকে চলতি বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করেছিলেন বিজয়। সেই সবরীনাথ বীরুগামবক্কম কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন। ছবি: পিটিআই

সম্পর্কিত সংবাদ