নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: মেদিনীপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাসাগর স্মৃতি মন্দির (বিদ্যাসাগর হল) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে উদ্বোধন হয়েছিল। এই প্রেক্ষাগৃহের বেহাল পরিস্থিতি নিয়ে ‘বর্তমান’-এ খবর প্রকাশের পরই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বুধবার বিদ্যাসাগর হল পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। সঙ্গে ছিলেন মেদিনীপুরের বিধায়ক শংকর গুছাইত এবং জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা। প্রশাসনের পরিকল্পনা, প্রেক্ষাগৃহটি নতুন করে সাজানোর পাশাপাশি সেখানে ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এজন্য কোটি টাকা ব্যয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই খবরে খুশি শহরবাসী।
বিদ্যাসাগর হলের সঙ্গে জড়িয়ে বাংলার ইতিহাসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৩৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর এই ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন। এর এক বছর বাদে ১৯৩৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছিল ওই প্রেক্ষাগৃহর। সেই সময় মেদিনীপুর শহরে তৈরি হয়েছিল উৎসবের আবহ। উদ্বোধনের আগের দিন বিশেষ ট্রেনে শহরে এসেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। ছিলেন ইতিহাসবিদ যদুনাথ সরকার, শিক্ষাবিদ ক্ষিতিমোহন সেন, সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কবি অমিয় চক্রবর্তী-সহ অন্য বহু বিশিষ্টজন।
১৫ ডিসেম্বর রাতে মেদিনীপুর স্টেশনে পৌঁছনোর পর রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর সঙ্গীরা জেলার রামগড়ের রাজবাড়িতে রাত কাটিয়েছিলেন। পরদিন সকাল ১০টা নাগাদ বিদ্যাসাগর হলের দরজা আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেন কবিগুরু। কবিগুরু সহ বিশিষ্টজনদের দেখতে প্রায় ১০ হাজার মানুষের সমাগম হয়েছিল বলে জানা যায়। পরবর্তীকালে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতির সাক্ষী থেকেছে এই হল। রবীন্দ্রনাথের ব্যবহৃত চেয়ার ও টেবিলের মতো কয়েকটি জিনিস বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের মেদিনীপুর শাখায় এখনও সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা যায়। তবে বিদ্যাসাগর হলের সর্বত্র রয়েছে অবহেলার ছাপ। জায়গায় জায়গায় দেওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত। বর্ষায় ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ে। পুরানো পাখা, জীর্ণ আসন এবং দীর্ঘদিনের পুরানো সাউন্ড সিস্টেম নিয়েই অনুষ্ঠান চালাতে হয়। তাই সংস্কারের দাবি জোরালো হচ্ছিল।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে তৎকালীন রাজ্য সরকারের তরফে বিদ্যাসাগর হল সংস্কারের জন্য ৮০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাও উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই কাজের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি নিয়েই ‘বর্তমান’-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপরেই টনক নড়ে প্রশাসনের। এদিন বিধায়ক শংকর গুছাইত বলেন, বিদ্যাসাগর হলের পাশাপাশি গোপগড়ও পরিদর্শন করেছি। দু’টি জায়গাকেই পরিকল্পিতভাবে সাজানো হবে। -নিজস্ব চিত্র