স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: বয়স মাত্র ১৪ বছর। এই বয়সেই পরিচিত দুই যুবকের যৌন লালসার শিকার। এমনকি তাকে কলকাতার নিষিদ্ধপল্লিতে বিক্রি করার চেষ্টাও চলছিল। সেই সময় হানা দিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে গরফা থানার পুলিশ। প্রবল ট্রমা নিয়ে হাসপাতালে মেডিকেল টেস্ট করানোর ব্যাপারে সম্মতি জানায় নাবালিকা। কিন্তু সরকারি কাজে উর্দিধারীদের সঙ্গে গিয়েও জুটল হয়রানি। টানা ৪ ঘণ্টা হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডেই অপেক্ষা করতে হল নির্যাতিতা নাবালিকা ও পুলিশ আধিকারিকদের। শেষ পর্যন্ত তদন্তকারীরা বাধ্য হন হাসপাতাল সুপারের দ্বারস্থ হতে। তাঁর হস্তক্ষেপে মেলে পরিষেবা। বৃহস্পতিবার এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে। সরকারি হাসপাতালে গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তের স্বার্থে পরিষেবা পেতে খোদ পুলিশের এই হাল হলে, সাধারণ মানুষকে কতটা ভুগতে হয় তা সহজেই অনুমেয়। প্রশ্ন উঠছে, সরকার বদলালেও সরকারি হাসপাতালের অবস্থা বদলাবে কবে?
সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, পকসো মামলায় অভিযোগ গ্রহণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো সরকারি হাসপাতালে নির্যাতিতার মেডিকেল পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক। শুধু তা-ই নয়, নিগৃহীতা নাবালিকার টেস্ট করবেন একজন মহিলা মেডিকেল অফিসার। এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডের টিকিট বলছে, এদিন সকালে ডিউটিতে ছিলেন তিনজন চিকিৎসক। তাঁদের মধ্যে একজন মহিলা। ফলে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা ছিল না। পুলিশ সূত্রে খবর, এদিন সকাল ৭টা নাগাদ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয় ওই নাবালিকাকে। সকাল ৭টা ৩২ মিনিটে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য টিকিট ইস্যু করা হয়। কিন্তু তারপর নানা বাহানায় চলে অপেক্ষা করানোর পালা। প্রায় তিন ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর অধৈর্য হয়ে পড়েন নির্যাতিার সঙ্গে যাওয়া তদন্তকারী আধিকারিক ও পরিবারের সদস্যরা। এরপরেই পুলিশের ঊর্ধ্বতন অফিসারদের উদ্যোগে যোগাযোগ করা হয় সুপারের সঙ্গে। এরপর সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ মেডিকেল পরীক্ষা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাফাই, পুলিশ যে সকাল ৭টাতেই নির্যাতিতাকে নিয়ে আসবে তা জানা ছিল না। তাই হাতে থাকা কাজ সম্পূর্ণ করে আসতে মহিলা চিকিৎসকের কিছুটা সময় লেগেছে। হাসপাতাল সুপার ডাঃ শিশির নস্কর বলেন, ‘পুলিশ যদি কোনো অভিযোগ জমা দেয়, তাহলে তা খতিয়ে দেখব।’ কলকাতা পুলিশের সাউথ সাবার্বান ও সাউথ ওয়েস্ট ডিভিশনের একাধিক থানার অন্দরমহল বলছে, যে কাজ অন্যত্র এক ঘণ্টায় হয়ে যায়, সেই সব কাজে এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালের এই ঢিলেমি বহুদিনের। তার জেরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটেছে।