নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনার (২) আওতাভুক্ত রেশন কার্ড গ্রাহকদের যাচাইয়ের (ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন) নির্দেশ দিয়েছে খাদ্যদপ্তর। এর আওতায় রাজ্যে প্রায় ৫০ লক্ষ রেশন গ্রাহক আছেন। এই গ্রাহকরা মাসে মাথাপিছু ২ কেজি করে চাল বিনা পয়সায় পান। খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া বেশ কিছুদিন ধরে বলে আসছেন, আর্থিকভাবে সম্পন্ন ব্যক্তিদের রেশনের বিনা পয়সার খাদ্য পাওয়া ঠিক নয়। তবে কোন মাপকাঠিতে সম্পন্ন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হবে, সে ব্যাপারে তিনি কিছু বলছেন না। এই পরিস্থিতিতে খাদ্যদপ্তরের গ্রাহক যাচাইয়ের এই প্রক্রিয়া তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
রাজ্যে এখন রেশন গ্রাহকের মোট সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি কোটি ৭৩ লক্ষ। এর মধ্যে ৬ কোটির কিছু বেশি রেশন গ্রাহক জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আছেন। এই গ্রাহকদের বিনা পয়সায় খাদ্য সরবরাহ করে কেন্দ্রীয় সরকার। এর বাইরে থাকা রেশন গ্রাহকরা রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনার (আরকেএসওয়াই) আওতায় আছেন। ১ নম্বর আরকেএসওয়াই-র আওতায় থাকা প্রায় ২ কোটি ২৩ লক্ষ রেশন গ্রাহক বিনা পয়সায় মাসে মাথা পিছু ৫ কেজি করে চাল পান। এই গ্রাহকদের আপাতত যাচাই প্রক্রিয়ায় রাখা হয়নি।
খাদ্যদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব গত ৩১ জুলাই ডিরেক্টর ডিডিপিএস এবং ডিরেক্টর রেশনিংকে যে নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন তাতে বলা হয়েছে,আরকেএসওয়াই-২ শ্রেণির গ্রাহকদের ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশনের কাজ দ্রুত করতে হবে। খাদ্যদপ্তরের যেসব নির্দেশিকা, গাইডলাইন প্রভৃতি আছে, তার ভিত্তিতেই এই ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন করতে হবে।
রেশন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে একগুচ্ছ মাপকাঠি রয়েছে খাদ্যদপ্তরের। শহর ও গ্রামাঞ্চলের জন্য আলাদা মাপকাঠি। আয় কত হলে, পারিবারিক সম্পদ কী কী থাকলে বা সরকারি চাকরি করলে রেশন কার্ড পাওয়া যাবে কি না, এরকম বিভিন্ন ক্ষেত্র নির্দিষ্ট করে বলা আছে। তবে অতীতে এসব মাপকাঠি না দেখে ঢালাওভবে রেশন কার্ড দেওয়া হয়েছে। যেসব মাপকাঠি আছে, তাতে বহু পরিবারের রেশন কার্ড থাকার কথা নয়। সেই সব নিয়ম কি এবার প্রয়োগ করা হবে? নাকি কেবল গ্রাহকদের অস্তিত্ব যাচাই করা হবে, সেটাই এখন দেখার। রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারই রেশন গ্রাহকদের সংখ্যা কমাতে চাইছে বলেই তাঁদের আশঙ্কা।