Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলায় সবজি-ভাত মাত্র ৩০ টাকায়! তাজ্জব ডবল ইঞ্জিন রাজ্যের ব্যবসায়ীরা

মাত্র ৩০ টাকায় সবজি-ভাত! ঠিক শুনছি তো! কলকাতা থেকে মেদিনীপুরে সৃষ্টিশ্রী মেলায় আসার পথে একটি হোটেলে উঠেছিলেন মোদি-শাহের রাজ্যের কয়েকজন পোশাক বিক্রেতা।

বাংলায় সবজি-ভাত মাত্র ৩০ টাকায়! তাজ্জব ডবল ইঞ্জিন রাজ্যের ব্যবসায়ীরা
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০১
Prefer us on Google

রাজদীপ গোস্বামী ,মেদিনীপুর: মাত্র ৩০ টাকায় সবজি-ভাত! ঠিক শুনছি তো! কলকাতা থেকে মেদিনীপুরে সৃষ্টিশ্রী মেলায় আসার পথে একটি হোটেলে উঠেছিলেন মোদি-শাহের রাজ্যের কয়েকজন পোশাক বিক্রেতা। দুপুরের খাওয়া-দাওয়া সারবেন। হাতমুখ ধুয়ে আবারও একবার নিশ্চিত হতে চাইলেন একথালি সবজি ভাতের দাম ঠিক কত? এবারও জবাব এল, উচ্ছে ভাজা, আলু ভাজা অথবা আলু ভাতে, মুগের ডাল, পাঁচমেশালি সবজি, চাটনি ও পাঁপড়—সব মিলিয়ে তিরিশ টাকা! পেটপুরে খাওয়া-দাওয়া করে ফের মেদিনীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন গুজরাতের ওই ব্যবসায়ী।

Advertisement

মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর হল প্রাঙ্গনে শুরু হয়েছে সৃষ্টিশ্রী মেলা। চলবে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, রাজস্থান, বিহার সহ একাধিক রাজ্য থেকে বহু ব্যবসায়ী এসেছেন। বুধবার গুজরাতের ওই ব্যবসায়ী বলছিলেন, ‘বাংলায় এসে সবজি-ভাত মাত্র ৩০ টাকায় খেতে পারব, তা ভাবতেই পারছি না। আমাদের ওখানে ওঁরা কেন এত বেশি টাকা নেন, এখন বুঝতে পারছি। ওখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম এখানকার তুলনায় অনেক বেশি।’ ডাবল ইঞ্জিনে চলা রাজ্যে এভাবে হাঁড়ির হাল ফাঁস হয়ে যেতেই সরব হয়েছে বাংলার শাসকদল তৃণমূল। তাদের বক্তব্য, বিজেপি ডাবল ইঞ্জিনের তত্ত্ব আউড়ে বাংলার মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করছে। ওদের এই জুমলাবাজি সবাই ধরে ফেলেছে।

সৃষ্টিশ্রী মেলায় গুজরাত থেকে এসেছেন নাসিমা ওসমান্দর ও জাকির হোসেন ওসমান্দর। তাঁরা বাঁধনি করা কাপড় বিক্রি করছেন। তাঁরা এদিন বলছিলেন, ‘প্রথমবার মেদিনীপুরে এসে দারুণ লাগছে। এখানে খাবারের দাম অনেক কম। আমাদের ওখানে ১০০ টাকাতেও খুব বেশি পরিমাণ খাবার মেলে না। এখানে ব্যবসার পরিবেশও ভালো। স্থানীয় জেলা প্রশাসন খুবই সহযোগিতা করছেন।’ উত্তর প্রদেশের বেনারস থেকে এসেছেন জালাউদ্দিন আনসারী। তিনি বেনারসের শাড়ি বিক্রি করছেন। তাঁর কথায়, ‘এখানে বিরিয়ানি অনেক সস্তা। খাবারের দামও সাধ্যের মধ্যে। শান্তিতে ব্যবসা করছি। উত্তরপ্রদেশে জিনিসের দাম অনেক বেশি।’

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে চালু হওয়া সৃষ্টিশ্রী মেলার শুরু থেকেই সমালোচনা করে আসছে বিরোধীরা। তবে, এখন গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ নিয়মিতভাবে এসব মেলায় অংশ নিচ্ছেন। নিজেদের হাতে তৈরি নানা সামগ্রী বিক্রি করে উপার্জনের পথ খুঁজে পেয়েছেন তাঁরা। বিশেষ করে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের মধ্যে নতুন আশা দেখিয়েছে সৃষ্টিশ্রী। মেলায় অংশ নেওয়া  মহিলারা বলছিলেন, ‘আমাদের হাতে তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী মেলায় বেশ ভালোই বিক্রি হচ্ছে। ফলে, সহজেই ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’ মেলায় ভিনরাজ্যের ব্যবসায়ীরাও আসছেন। তাঁদের আয়-উপার্জন ভালোই হচ্ছে। পাশাপাশি, অতি অল্প টাকায় পেটে পুরে খেতে পেয়ে খুশি সকলেই। মেদিনীপুর শহরের হোটেল মালিক ঝণ্টু জানা জানিয়েছেন, তাঁর হোটেলে মেলায় অংশগ্রহণকারী অনেকেই খেতে আসছেন। মাত্র ৩০ টাকায় বিক্রি করেন সবজি-ভাতের থালি। মাছ খেলে ৬০ টাকা।

যদিও জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, ‘বাংলায় চাকরি নেই। আর ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে চাকরি আছে। এটাই পার্থক্য।’ পাল্টা দিয়েছেন জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি মহম্মদ রফিক। তিনি বলেন, ‘বিজেপি সরকার মানুষের জন্য কিছুই করে না। এটা ভারতীয় জঞ্জাল পার্টি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ