


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ময়দানের পড়ন্ত বিকেল! গোষ্ঠ পাল সরণিতে রীতিমতো জ্যাম। ইডেনের ক্লাব হাউসের সামনের গেটে ব্যারিকেড টেনে ভিড় সামলাতে ব্যস্ত পুলিশ। ভারতীয় টিমের প্রিয় তারকাদের একবার চোখে দেখার জন্য পাগল অনুরাগীরা। আর টিম বাস ইডেনের সামনে থামতেই ‘ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া’ স্লোগানে কেঁপে উঠল চত্বর। এরপর অনুরাগীদের অভিবাদন গ্রহণ করে একে একে নন্দনকাননে প্রবেশ করলেন গৌতম গম্ভীর, তিলক ভার্মারা। ড্রেসিং-রুমে বোধহয় একদণ্ডও দাঁড়াননি গম্ভীর। সোজা হাঁটা দিলেন মাঠে। তাঁকে অনুসরণ করলেন সূর্যকুমার, বরুণ চক্রবর্তীরাও। ইডেনের প্রতিটি ঘাস এই তিনজনের চেনা। দু’জন কেকেআরের প্রাক্তনী আর একজন বর্তমান ক্রিকেটার। চেনা মাঠে ক্যারিবিয়ান বধে প্রস্তুত তাঁরা।
পিচে সামান্য ঘাস দেখে গম্ভীরের চোখ চিকচিক করে উঠল। কিউরেটর সুজন মুখার্জির সঙ্গেও দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করলেন। তারপর পিচের পাশের দু’টি নেটে পাঠানো হল বরুণ ও বুমরাহকে। ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং ভাঙতে এই দু’জনই যে ভারতের অস্ত্র। তবে বরুণের সাম্প্রতিক ফর্ম চিন্তায় রাখছে দলকে। মিস্ট্রি স্পিনারের রহস্য যেন উধাও। শনিবার তাই অনুশীলনের ফাঁকে বরুণের স্পেশাল ক্লাস নিলেন গুরু গম্ভীর। পাশে ছিলেন বোলিং কোচ মর্নি মর্কেলও। দীর্ঘক্ষণের আলোচনায় গোতি বোধহয় বরুণকে বলার চেষ্টা করছিলেন, ‘এটা তোমার দ্বিতীয় ঘর। মঞ্চ তৈরি। এবার অন্তত চেনা মেজাজে ধরা দাও।’ স্পিনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ব্যাটারদেরও দুর্বলতা প্রকট হয়েছে চলতি বিশ্বকাপে। তাই স্পিনের বিরুদ্ধে অভিষেক, ঈশানের ব্যাটিংয়েও কড়া নজর রেখেছিলেন হেডমাস্টার। তাছাড়া এবার বিশ্বকাপে ইডেনে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে টিম ইন্ডিয়া। পক্ষান্তরে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ গ্রুপ পর্বে নন্দনকাননে দু’টি ম্যাচ খেলেছে।
এদিন ভারতের অপশনাল প্র্যাকটিস ছিল। মাঠে আসেননি হার্দিক পান্ডিয়া ও সঞ্জু স্যামসন। আর বাবার শেষকৃত্যের জন্য বাড়ি গিয়েছেন রিঙ্কু সিং। সাংবাদিক সম্মেলনে এসে সহকারী কোচ রায়ান টেন ডয়েসকাটে বলছিলেন, ‘আমরা প্রত্যেকে রিঙ্কুর পাশে আছি। ও শনিবার রাতে শিবিরে যোগ দিতে পারে।’