নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: অতি বৃষ্টি ও ডিভিসির ছাড়া জলে শনিবার খানাকুলের নিচু এলাকাগুলি প্লাবিত হয়। কামারপুকুর বদনগঞ্জ রাজ্য সড়কের উপর সাতবেড়িয়া এলাকায় রাস্তার উপর জল উঠে যায়। প্রত্যেক বছর সেখানে খালের জল রাস্তার উপর উঠে যায়। এদিনও একই পরিস্থিতি হয়েছে। সেই জলের উপর দিয়েই বাসিন্দারা যাতায়াত করছেন। অন্যদিকে, এদিন ডিভিসি দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ আরও বাড়ায়। সেচ দপ্তরের হুগলি ডিভিশনের এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, এদিন সকালে ডিভিসির তরফে ৭০ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে। তবে তাতে ভয়ের কিছু নেই। জল এখনো বিপদ সীমার নীচে রয়েছে।
বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, খানাকুলের নিচু এলাকাগুলির একাংশে জল ঢুকেছে। এখনো পর্যন্ত কাউকে উদ্ধার করার প্রয়োজন হয়নি। তবে, পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। মাড়োখানার বাসিন্দা সুজিত পাল বলেন, ডিভিসির জল ছাড়ায় ও ভরা কোটাল চলায় নদী উপচে জল গ্রামে ঢুকে পড়েছে। মূল রাস্তা ডুবেছে। বর্ষার সময় প্রতি বছর এই সমস্যায় আমাদের পড়তে হয়। ঢলডাঙার বাসিন্দা কুশব দাস বলছেন, আমাদের গ্রামের বেশিরভাগ অংশই ডুবে গিয়েছে। আমরা দাদার উঁচু বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। কার্যত গৃহবন্দি অবস্থার মধ্যেই কাটাতে হচ্ছে। আরেক বাসিন্দা শম্ভু নাথ পাল বলেন, পানশিউলি বাজার সহ মাড়োখানা পঞ্চায়েতের গোড়ার রাস্তা জলে ডুবে গিয়েছে। প্রতি বছর এই পরিস্থিতি হওয়ায় এখানকার মানুষজন অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছেন। স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যাতায়াতে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। কিছুদিন আগেই অতি বৃষ্টি ও ডিভিসির ছাড়া জলে খানাকুলের নীচু এলাকাগুলিতে বানভাসির পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেইসময় প্রশাসনের তরফে বেশকিছু ত্রাণ শিবির খুলে দুর্গতদের নিয়ে যাওয়া হয়। সম্প্রতি নিম্ন চাপের প্রভাবে টানা তিনদিন ধরে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। তাতে ফের নদ-নদীগুলিতে জলস্তর বাড়তে শুরু করেছে। একইসঙ্গে ডিভিসির তরফেও জল ছাড়া হচ্ছে। তাতেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বাসিন্দারা। পানশিউলি বাজারে জল ঢুকে পড়ায় বেশ কিছু দোকানপাট বন্ধ করে দিতে হয়। সেচ দপ্তর জানিয়েছে, নদীর বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হচ্ছে। শনিবার থেকে বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হবে। -নিজস্ব চিত্র