অমিত চৌধুরী তারকেশ্বর: বন্দে মাতরম, লালকেল্লা, হড়পা বানসহ একাধিক থিমে সেজেছে জাঙ্গিপাড়ার বারোয়ারির পুজোমণ্ডপগুলি। জাঙ্গিপাড়া ব্লকে দুর্গাপুজো হচ্ছে মোট ২৫৫টি। বাড়ির পুজোর সংখ্যা ২৮।
উল্লেখযোগ্য পুজোগুলির মধ্যে রয়েছে মোহনবাটি নেতাজি যুবক সংঘের পুজো। ২৬তম পড়ছে তাদের থিম ‘হড়পা বান’। এই মণ্ডপে দেখা যাবে পাহাড়ি এলাকায় হড়পা বানে আটকে পড়া সেনাবাহিনীকে উদ্ধার করছে হেলিকপ্টার। ক্লাবের সদস্যরা নিজেরাই হাত লাগায় মণ্ডপ তৈরিতে। ডিজে বক্সের পরিবর্তে এই মণ্ডপে দেখা যাবে খোল-করতাল নিয়ে পদযাত্রা। প্রসাদপুর ভগবতী যুবক সংঘের দুর্গাপুজোর থিম বন্দে মাতরম। ৫২তম বর্ষে পদার্পণ করেছে এই পুজো। স্থায়ী মণ্ডপের সামনে তৈরি করা হয়েছে দেশপ্রেমের বন্দনা। প্রতিমা তৈরি প্রায় শেষের পথে। মণ্ডপেই তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। পাশেই রয়েছে কয়েকশো বছরের পুরানো নিম কাঠের তৈরি দেবী ভগবতী। চাঁকপুর জাগৃহী সংঘের দুর্গাপুজো ৬৯তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। পুজোর থিম লালকেল্লা। কাপড় থার্মোকল দিয়ে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। অপরূপ সুন্দর প্রতিমা প্রতিবছর নজর কাড়ে সকলের। জাঙ্গিপাড়ার প্রাণকেন্দ্র জাঙ্গিপাড়া বাজারে ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে দুর্গাপুজোর থিম বন্দে মাতরম। ৬৪তম বর্ষে পদার্পণ করেছে এই পুজো। সুকান্ত স্মৃতি সংঘের পুজো। ২৯তম বর্ষে পদার্পণ করেছে এই পুজো। জাঙ্গিপাড়া রিলায়েন্স ক্লাব। এবছর তাদের ২৮তম বর্ষ। পশপুর যুব গোষ্ঠীর পুজো। ৪৬তম বর্ষ। সিংটি দেশবন্ধু যুবক সমিতির পুজো। ৫৬ বছরে পদার্পণ করেছে এই পুজো।
এছাড়া রয়েছে ঐতিহ্যবাহী আঁটপুর রামকৃষ্ণ মিশনের পুজো, প্রেমানন্দ মহারাজের কাকার বাড়ির পুজো, দাস বাড়ির পুজো, মিত্রবাড়ির পুজো। জাঙ্গিপাড়া ব্লকের আঁটপুরের বনেদি বাড়ির পুজোগুলির মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যের ছোঁয়া। বহু ঐতিহাসিক ঘটনা লুকিয়ে রয়েছে এই পুজোগুলির মধ্যে। রাজবলহাটে দুর্গাপুজোতে রাজবল্লভী মায়ের চারদিন বিশেষ পুজো অনুষ্ঠিত হয়। পুজোর চারদিন এই এলাকার ভিড় সামাল দেওয়া প্রশাসনের কাছে বড়ো চ্যালেঞ্জ। ইতিমধ্যেই পুলিশ আধিকারিকরা পরিদর্শন করেছেন এলাকা। সুষ্ঠুভাবে পুজো পরিচালনা ও প্রতিমা দর্শনের জন্য প্রশাসনিকভাবে সবরকম ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।



