প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্রাম: জঙ্গলমহলে মাওবাদী দমনে সাফল্য পেয়েছিল পুলিশ। ঢাকঢোল পিটিয়ে সেই প্রচারও করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। সেই পুলিশ কি না লাইব্রেরির গ্রন্থ চুরির কিনারাই করতে পারল না গত আট বছরে! জঙ্গলমহলের বই প্রেমীরা এবার তুলছেন, অবিলম্বে তদন্ত শেষ করে বই চোরদের গ্রেপ্তার করতে হবে। উদ্ধার করতে হবে চুরি যাওয়া ঝাড়গ্রাম জেলার বহু প্রাচীন মূল্যবান নথিপত্র ও সামাজিক ইতিহাস সমৃদ্ধ একাধিক গ্রন্থ।
ঝাড়গ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত দ্বিজেন্দ্র স্মৃতি মহিলা গ্ৰন্থাগার। কর্মীর অভাবে দু’বছর লাইব্রেরির দরজা বন্ধ ছিল। ২০১৮ সালে তালাবন্ধ ঘরের দরজা খুলেই চমকে ওঠেন আধিকারিকরা। সমস্ত আলমারি খাঁ খাঁ করছে। তিন হাজারেরও বেশি বই ছিল। কোত্থাও একটা বই নেই। টেবিলে একটা কম্পিউটার ছিল। সেটাও উধাও। কিন্তু, বন্ধ ঘর থেকে এত বিপুল সংখ্যক বই লোপাট করল কে বা কারা? কেনই বা কেউই টের পেলেন না? ঘটনাটি সামনে আসতেই পাঠকমহলে তীব্র ক্ষোভ ছড়ায়। নানা জল্পনাও ছড়াতে থাকে। সাধারণ দুষ্কৃতীরা এত সংখ্যক বই নিয়ে কি করবে? গ্রন্থ চুরিতে প্রভাবশালীরা কেউ জড়িত ছিলেন না তো? এই ধরণের নানা কথা হাওয়ায় ভেসে বেড়াতে শুরু করে। অতঃপর, লিখিত অভিযোগ দায়ের হয় থানায়।
তারপর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ আট বছর। সময়ের নিয়মে ঘটনাটি বিস্মৃত প্রায়। তদন্তের অগ্রগতি একচুলও এগোয়নি বলে অভিযোগ ঝাড়গ্রাম শহরবাসীর। এখন গ্ৰন্থাগারের চেহারা বদলে গিয়েছে। বর্তমানে দ্বিজেন্দ্র স্মৃতি মহিলা গ্রন্থাগার ভবনের অস্তিত্ব আর নেই। সেখানে জেলা গ্রন্থাগার নির্মাণের কাজ চলছে। ফলে, বর্তমান সরকারের আমলে নতুন করে তদন্ত শুরু হলেও আদৌ বই চুরির কিনারা হবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান জেলাবাসী।
বুধবার জেলা গ্ৰন্থাগারের এক কর্মী বলছিলেন, ‘সেদিন গ্ৰন্থাগারের দরজা খোলার সময় আমি দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলাম। বিপুল বই নেই দেখে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ, বহু দুর্লভ বই ও নথিপত্র ছিল। পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তারপর কি যে হল, জানা যায়নি।’ শহরের বাসিন্দা তথা লেখক স্বপন মাহাত বলছিলেন, ‘এতবছর ধরে তদন্ত চলার পরেও বই চুরির ঘটনাটি এখনও রহস্যই থেকে গিয়েছে। আমরা আজও জানতে পারলাম না এতগুলি মূল্যবান বই কোথায় গেল? কারাই বা নিয়ে গেল? জেলা গ্ৰন্থাগার তৈরির কাজ এখনও শেষ হয়নি। মহকুমা লাইব্রেরিটি ভাড়া বাড়িতে চলছে। সেখানে পাঠকদের বই পড়ার কোনো জায়গা নেই। আমরা চাই জেলা গ্ৰন্থাগার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখুক। ঘটনার সঙ্গে ঝড়গ্রাম জেলার প্রাচীন ইতিহাস, সামাজিক বৈচিত্রের ধারাবাহিকতা ও লোকশিল্পের ইতিহাস জড়িয়ে।’ জেলা গ্ৰন্থাগার দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘বই চুরির ঘটনা অনেক আগে ঘটেছিল। তদন্ত প্রক্রিয়া কোন অবস্থায় রয়েছে জানিনা। খোঁজ নিয়ে দেখব। জেলা পুলিশের এক কর্তা এদিন বলেন, ‘তদন্ত প্রক্রিয়াটি কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে, তা দেখব।’
আশ্বাস নয়, দ্রুত ব্যবস্থা চায় ঝাড়গ্রামবাসী।