ভাবাদিঘি নিয়ে হাই কোর্টের রায়ে খুশি আরামবাগ ও বাঁকুড়ার বাসিন্দারা
  • ৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেলপথ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের রায়ে খুশি আরামবাগ ও বাঁকুড়ার বাসিন্দারা। আদালতের নির্দেশের পর দ্রুত জট কাটিয়ে শুরু হোক রেল প্রকল্পের কাজ— এই দাবি জোরালো হচ্ছে। তারসঙ্গে হাই কোর্টের রায় নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে গোঘাটের ভাবাদিঘির বাসিন্দাদের মধ্যেও। উল্লেখ্য, তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেল প্রকল্পের ঘোষণা করেন। আপাতত গোঘাট পর্যন্ত রেল চলাচলও করছে। কিন্তু গোঘাট ও কামারপুকুরের মাঝে ৫২ বিঘা ভাবাদিঘির উপর দিয়ে রেল লাইন পাতার সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে আন্দোলন শুরু করেছেন ভাবাদিঘির বাসিন্দারা। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলনের জেরে থমকে রয়েছে রেল লাইন পাতার কাজ। একাধিকবার প্রশাসনিক বৈঠক হলেও জট কাটেনি। তার জেরে রেল পরিষেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বাঁকুড়া ও আরামবাগ মহকুমার লক্ষ লক্ষ মানুষ। গত বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টে ভাবাদিঘি দিয়ে মামলার শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ তিন মাসের মধ্যে জট কাটিয়ে রেল প্রকল্প গড়তে নির্দেশ দেয়। তাতেই খুশির হাওয়া দুই জেলার বাসিন্দাদের মধ্যে। অনেকেই রেল প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার পক্ষে সওয়াল করেছেন। চায়ের দোকানেও তা নিয়ে চলছে আলোচনা। 

Advertisement

এদিন আন্দোলনকারীদের অনেককে ফোন করেও অনেকে খোঁজখবর নিচ্ছেন। তবে প্রশাসন বা রেলের তরফে এদিন বিকেল পর্যন্ত ভাবাদিঘি গ্রামে কেউ যায়নি বলেই জানা গিয়েছে।
কামারপুকুর রেল চাই পক্ষের সদস্য রাকেশ মালিক বলেন, ভাবাদিঘি নিয়ে হাই কোর্টের রায়ে আমরা খুশি। এবার দ্রুত রেল প্রকল্পের কাজ শুরু হবে তার আশা করছি। বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা প্রদীপ কর, তুলসীদাস মাইতি বলেন, আমাদের সাধারণত খড়্গপুর হয়ে হাওড়া যেতে হয়। তা সময় সাপেক্ষ। কিন্তু তারকেশ্বর হয়ে হাওড়া যাতায়াত তুলনামূলক সহজ হবে। তাছাড়া কামারপুকুর জয়রামবাটি রেল মানচিত্রে যুক্ত হওয়াও প্রয়োজন। তাতে এলাকার আরও উন্নতি সম্ভব। তাই ভাবাদিঘির জট কাটিয়ে দ্রুত রেল চালুর দাবি জানাচ্ছি। 
যদিও ভাবাদিঘি বাঁচাও কমিটির সম্পাদক সুকুমার রায় শুক্রবার বলেন, আমরা এখনও আদালতের রায়ের কপি পাইনি। তবে যতটুকু শুনেছি তাতে আদালত দিঘি বুজিয়ে রেল লাইন পাতার নির্দেশ দেয়নি। আমরা চাই রেল হোক। কিন্তু তা দিঘি বাঁচিয়ে করা হোক। রায়ের কপি হাতে পেলে আলোচনা করে আইনি পরামর্শ নেওয়া হবে।  নিজস্ব চিত্র