লখনউ: জ্ঞানবাপী মন্দির চত্বরের ভিডিয়োগ্রাফি সার্ভের নির্দেশ দিয়ে শিরোনামে এসেছিলেন বিচারক রবি কুমার দিবাকর। ২০২২ সালের সেই বিতর্কিত রায় দানের পর কেটে গিয়েছে আরও চারটি বছর। এবারও তিনি আলোচনার কেন্দ্রে। তবে অন্য কারণে। এপ্রিল থেকে আগস্টে গত চারমাসে ১০টি মামলায় ২২ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের এই বিচারক। এখন তিনি উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগরের অতিরিক্ত জেলা এবং দায়রা আদালতে কর্মরত। তাঁর রায়ের তালিকায় রয়েছে আইনজীবী খুন, হোমগার্ড খুনের মতো মামলা। বিচারক দিবাকরের এই রায়গুলির বিস্তারিত সোমবার সামনে এনেছেন সরকারি আইনজীবী কুলদীপ কুমার।
২০১৪ সালের ১৪ জুলাই শামলি জেলায় পুরনো শত্রুতার জেরে বাড়িতে ঢুকে খুন করা হয় পবন কুমারকে। ১২ বছরের পুরানো সেই মামলায় গত ১৩ আগস্ট চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারক দিবাকর। এছাড়াও দোষীদের ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা জরিমানাও করেন। এর একদিন আগে গত ১২ আগস্ট ২৭ বছরের পুরানো মামলায় কাঠ ব্যবসায়ীকে অপহরণ এবং খুনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্তকে মৃত্যুদণ্ড দেন তিনি।
তাঁর আদালতে মৃত্যুদণ্ডের হয়েছে এক প্রাক্তন গ্রাম প্রধান এবং তার সহযোগীরও। ২০১০ সালের ২৪ আগস্টের ঘটনা। পঞ্চায়েত নির্বাচন উপলক্ষ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে খুন হন রাজবীর সিং নামে এক ব্যক্তি। এই খুনকে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ জানিয়ে প্রাক্তন গ্রাম প্রধান প্রমোদ এবং তার সহকারী সহদেবকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারক দিবাকর। তবে সবচেয়ে আলোচনা হয় আইনজীবী মহম্মদ সমীর সাফির খুন নিয়ে। ৪৫ লক্ষ টাকা নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর খুন হন সাফি। সেই মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন তিনি।
২০২০ সালের ৪ জুন রতিরাম নামে এক হোমগার্ড কর্তব্যরত অবস্থায় খুন হন। দীপক নামে একজনের মারধরের হাত থেকে তার মাকে উদ্ধার করতে গিয়েছিলেন রতিরাম। নিজের মাকে ছেড়ে দীপকের সব রাগ গিয়ে পড়ে রতিরামের উপর। রতিরামকে খুন করে দীপক। ২ জুলাই দীপককে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারক দিবাকর।