‘উত্তমকুমার চোর’। সাত সকালে মর্নিংওয়াক করতে বেরিয়ে দেওয়ালে এই পোস্টার দেখে মনটা দুঃখে ভরে গিয়েছিল মহানায়কের। সারা জীবন যিনি সহশিল্পী, কলাকুশলীদের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছেন, শেষে কি না তাঁকেই চোর অপবাদ! উত্তম তখন অভিনেতৃ সংঘের প্রেসিডেন্ট। সংঘের কিছু সদস্যের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ বাধল। ওই সদস্যদের দাবি ছিল, ভিয়েতনাম যুদ্ধে অর্থ সাহায্য করতে হবে। কিন্তু উত্তমের সাফ কথা, ইন্ডাস্ট্রির দুঃস্থ সহশিল্পীদের না দিয়ে ভিয়েতনামে টাকা দিতে যাব কেন? মতান্তর গড়াল মনান্তরে। উত্তম অভিনেতৃ সংঘ ছাড়লেন। তৈরি করলেন নতুন সংগঠন ‘শিল্পী সংসদ’। এই সংগঠন শুধু ফিল্মের শিল্পী বা কলাকুশলীদেরই নয়, থিয়েটার, যাত্রা, সংগীত শিল্পীদেরও সাহায্য করার শপথ নিল। সেটা ১৯৬৮ সাল। বহু শিল্পী সেই সময়ে সংসদ থেকে নিয়মিত অর্থ সাহায্য পেতেন। একটি খাতায় তার হিসেব রাখা হতো। তাতে কাকে, কত টাকা দেওয়া হচ্ছে, কীভাবে এবং কী প্রয়োজনে দেওয়া হচ্ছে সব উল্লেখ থাকত। ১৯৭৩ সালের এমনই এক এন্ট্রিতে দেখা যাচ্ছে, অসুস্থ হয়ে পিজি হাসপাতালে ভর্তি ঋত্বিক ঘটককে এককালীন ১০০০ টাকা সাহায্য করা হয়েছে চিকিৎসার জন্য। তখন ১০০০ টাকার মূল্য কিন্তু আজকের প্রায় ১ লাখ টাকার সমান! প্রসঙ্গত, এবছর ঋত্বিকের জন্মশতবর্ষ চলছে। আর উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ শুরু হবে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর। উত্তম প্রয়াত হন ১৯৮০ সালে। শিল্পী সংসদ কিন্তু এখনও তাঁর আদর্শে অবিচল থেকে কাজ করে যাচ্ছে। এখনও বহু শিল্পীকে তারা সাহায্য করে। নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় সেই অর্থ। গতকাল ২৪ জুলাই ছিল উত্তমকুমারের ৪৬তম প্রয়াণ দিবস। সেই উপলক্ষ্যে শিল্পী সংসদ নন্দনে উত্তমকুমার অভিনীত সিনেমার এক উৎসবের আয়োজন করেছে। ৩১ জুলাই পর্যন্ত নন্দন ১, ২ ও ৩ জুড়ে দেখানো হবে মহানায়ক অভিনীত ১৬টি ছবি। টিকিট বিক্রির টাকা থেকে সাহায্য করা হবে দুঃস্থ শিল্পীদের। আর মহাজাতি সদনে গতকালই বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির তাবড় শিল্পীদের উপস্থিতিতে হয়ে গেল এক মেগা জলসা। সেই টিকিট বিক্রির টাকাও যাবে দুঃস্থ শিল্পীদের ফান্ডে।



