Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

উত্সব ‘গঙ্গাম্মা যাতারা’

উত্সব ‘গঙ্গাম্মা যাতারা’
  • ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
পরনে শাড়ি। শরীরে নীল রং। কপাল ভর্তি সিঁদুর। কানে দুল, গলায় লেবুর মালা, হাতে চুড়ি। এমনই ‘বিচিত্র’ রূপে দুষ্টের ‘দমন’ করছেন নায়ক। যাদের সঙ্গে লড়াই তারাও শাড়ি পরিহিত পুরুষ। ‘পুষ্পা ২’ সিনেমার এই দৃশ্য অনেকেই দেখে ফেলেছেন। সুপারস্টার অল্লু অর্জুনের শাড়ি পরিহিত ‘অবতার’ নিয়ে চর্চা এখন সর্বত্র। কিন্তু সিনেমার নায়কের পরনে হঠাৎ শাড়ি কেন? শুধুই কি চমক? উত্তর হল, না। আদতে অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাচীন এক লোকাচার ও উৎসবকেই সিনেমার পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে। যার নাম গঙ্গাম্মা যাতারা বা যাত্রা। অন্ধ্রের তিরুপতি ও চিত্তুর জেলা সহ বিভিন্ন প্রান্তে পূজিতা হন দেবী গঙ্গাম্মা। আর প্রতি বছর মে মাসের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে আয়োজন হয় যাতারা উৎসব। অনেকটা দুর্গাপুজোর ধাঁচে ৭-৮ বা ৯ দিন ধরে চলে এই উৎসব। আর এর শেষদিনে পুরুষরা শাড়ি পরে নারী বেশে দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন। কিন্তু কেন এমন রীতি?
Advertisement
জনশ্রুতি অনুযায়ী, একসময় তিরুপতি ও সংলগ্ন এলাকা শাসন করতেন পালেগাড়ু নামে এক ব্যক্তি। স্বভাবে অত্যন্ত ক্রুর। বিশেষত মহিলাদের সম্ভ্রমহানি করা ছিল তার নেশা। পালেগাড়ুর অত্যাচার থেকে বাঁচতে দেবী জগন্মাতার কাছে প্রার্থনা করেন মহিলারা। প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে তিরুপতির কাছে আভিলালা গ্রামে মানুষ রূপে জন্ম নেন দেবী। তাঁর নাম হয় গঙ্গাম্মা। এরপর গঙ্গাম্মা যখন বড় হয়ে ওঠেন, তখন তাঁর দিকেও কুনজর দেয় পালেগাড়ু। হাত ধরে টানাটানিও করে। ক্রুদ্ধ গঙ্গাম্মা পালেগাড়ুর সামনে দেবীরূপে দেখা দেন । ভয় পেয়ে পালেগাড়ু অজ্ঞাত স্থানে আশ্রয় নেয়। তাঁকে খুঁজে পেতে বিভিন্ন রূপ ধারণ করতে শুরু করেন গঙ্গাম্মা। কয়েকদিনের চেষ্টার পর শেষ পর্যন্ত তিনি রাজার রূপ নেন। রাজা এসেছেন ভেবে দর্শন করতে পালেগাড়ু বাইরে আসতেই তাঁকে হত্যা করেন গঙ্গাম্মা। অন্য মত অনুসারে, অপরূপ সুন্দরী মহিলার রূপ ধারণ করেছিলেন দেবী।  নারীর সম্ভ্রম রক্ষার বিষয়টিকে সম্মান জানাতেই শুরু হয় পুরুষদের নারী সেজে গঙ্গাম্মাকে উপাসনা। সেই রীতি আজও বহমান। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, গঙ্গামা হলেন ভেঙ্কটেশ্বর বালাজি দেবের বোন। 
সম্পর্কিত সংবাদ