নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার বিচারভবনে মুখ্য সরকারি কৌঁসুলির অফিসের ধুন্ধুমার কাণ্ড এবং দুপুরে ব্যাঙ্কশাল আদালতে এক বিক্ষোভের ঘটনাকে কেন্দ্র আইনজীবীরা প্রহৃত হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দুই আদালতেই অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে আইনজীবীদের সংগঠনগুলি। বিচারভবনে মুখ্য সরকারি কৌঁসুলির ঘরে ঢুকে বিক্ষোভ দেখানোর নামে কয়েকজন সরকারি আইনজীবী চেয়ার‑টেবিল উলটে দেন বলে অভিযোগ। চলে অশ্রাব্য গালিগালাজ। কাগজপত্র মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে ওঠে। কিছুক্ষণের জন্য ওই অফিস ঘরে কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। গোটা কোর্ট চত্বরে ছড়িয়ে পড়ে আইনজীবীদের মধ্যে শোরগোল। এই ঘটনার পরই কয়েকজন সরকারি ও বিজেপি সমর্থিত আইনজীবী মুখ্য সরকারি কৌঁসুলির অফিস ঘরের বাইরে কোর্ট চত্বরে মেঝেতে বসে পড়েন। সেখানেই তাঁদের কাজকর্ম চলতে থাকে। সরকারি আইনজীবীদের একাংশের অভিযোগ, বিভিন্ন ‘মামলার ব্রিফ’ বন্টন করার ক্ষেত্রে চলছে নানা বৈষম্য। এই বিষয়ে মুখ্য সরকারি আইনজীবী সদার্থক ভুমিকা পালন করছেন না। তাঁদের আরও অভিযোগ, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই কোর্টের যে সরকারি আইনজীবীদের প্যানেল প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে বেশ কিছু সিপিএমপন্থী আইনজীবী ঠাঁই পেয়েছে। কিন্তু যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি করে আসছেন, তেমন কিছু আইনজীবীদের প্রকৃত যোগ্যতা থাকা সত্বেও নতুন সরকারি প্যানেলে জায়গা পাননি। যদিও মুখ্য সরকারি কৌঁসুলি অরুণকুমার ভকত বলেন,‘মুখ্য সরকারি কৌঁসুলির চেয়ারে বসার পর আমি নিরপেক্ষভাবে কাজ করার চেষ্টা করি। সঠিকভাবে যাতে আইনজীবীদের মধ্যে মামলার ব্রিফ বন্টন করা হয়, তা নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে থাকি। তাই আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন।’



