নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অবশেষে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বদলি করার জন্য সংশোধনী বিল বিধানসভায় পাশ হয়ে গেল বৃহস্পতিবার। ভোটাভুটির আগে ওয়াকআউট করলেন ঋতব্রত তৃণমূলের বিধায়করা। আর কালীঘাট তৃণমূল এবং বাম-কংগ্রেসের ১৫টি ভোট গেল বিপক্ষে। শেষপর্যন্ত ১৭১-১৫ ভোটে পাশ হয়ে গেল এই বিতর্কিত বিলটি। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিত এবং শিক্ষামহলের আশঙ্কা অনুযায়ী, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বাম-অতিবাম’ অধ্যাপকদের ‘চাপে রাখতেই’ তড়িঘড়ি এই বিল পাশ করানো হয়েছে বিধানসভায়।
এই বিলের বিপক্ষে বলতে গিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, নওশাদ সিদ্দিকি, আখরুজ্জামান, আলিফা আহমেদ বা মোস্তাফিজুর রহমানরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা সরকারি কর্মী নন। তাই তাঁদের সরাসরি এভাবে বদলি করা যায় না। তাছাড়া, অধ্যাপকদের অধীনে অনেক রিসার্চ স্কলার থাকেন। সুপারভাইজার বদলে গেলে সেই গবেষকরা বিপদে পড়বেন। অধ্যাপকরা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা থেকে রিসার্চ গ্রান্ট পান। তার বড়ো অংশ যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেও। মাঝপথে কোনো অধ্যাপক বদলি হলে, সেই অনুদান নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এর পাশাপাশি বিরোধী মতাদর্শে বিশ্বাসী শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের টার্গেট করে বদলি, শিক্ষায় বিশেষ ধর্মীয়করণের আশঙ্কাও তোলা হয়েছে বিরোধীদের তরফে। বিপক্ষ যুক্তিগুলি দেওয়ার সময় চিৎকার করে এক বিরোধী বিধায়ককে ‘দেশদ্রোহী’ তকমাও দেয় ট্রেজারি বেঞ্চ।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য তাঁর বক্তব্যের প্রায় পুরোটা জুড়েই রেখেছিলেন যাদবপুর এবং সিপিএম তথা বামেদের। উপাচার্য গোপাল সেন হত্যার জন্য কমিশন খোলার ভাবনা, কিষেনজিকে রেড স্যালুটের তীব্র প্রতিবাদ, এমনকি যাদবপুরের দুর্নীতির বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন,‘কর্ণাটক, কেরলের মতো রাজ্যে বদলি ব্যবস্থা চালু রয়েছে। গুজরাত এবং বিহারও সেই পথে হাঁটছে। তার আগেই আমরা করে দিলাম।’ কোনো বিশ্ববিদ্যালয় আইন যে একাজে অন্তরায় হতে পারে না, তাও দাবি করেন তিনি। উদাহরণ হিসাবে বলেন, কোনো রাজ্যের আইন দেশের আইনের পরিপন্থী হলে, সেক্ষেত্রে দেশের আইনই কার্যকর হবে। সেভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনগুলির উপরে গুরুত্ব পাবে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় সংশোধনী আইন। রাজ্যের উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় প্রাচীনকাল থেকেই শিক্ষক বা গুরুদের বদলি প্রথা চালু ছিল অন্যভাবে। তাঁর আরও যুক্তি, বিগত রাজ্য সরকারের চালু করা ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ন’টিতে কোনো স্থায়ী অধ্যাপক নেই। তাই এ ধরনের বদলিতে অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের পেয়ে নবীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলি উপকৃত হবে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপোষণ নিয়েও তিনি ব্যঙ্গাত্মক সমালোচনা করেন। এই প্রতিষ্ঠানে এক-একটি বিষয়ে প্রচুর শিক্ষক রয়েছেন দাবি করে জগন্নাথবাবু সাফ জানান, যেখানে প্রয়োজন সেখানে তাঁদের কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে, এই আইন হাতিয়ার করে ঢালাও বদলি হবে না বলেই আশ্বাস উচ্চ শিক্ষামন্ত্রীর।