নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: গুজরাতের উপর অসন্তুষ্ট শিবরাজ সিং চৌহান। প্রবল প্রচারের ঢাক পিটিয়ে ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ প্রকল্প শুরু হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত মোদি-শাহর রাজ্য গুজরাত গরিব শ্রমিকদের মজুরি দিতে আরবিআইয়ে (রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া) খাতাই খোলেনি। প্রকল্পের প্রয়োজনে ‘ডিবিটি মিশন কোড’ এবং ‘এসএলএস ম্যাপিং’য়ের কাজও করেনি। গুজরাতের পাশাপাশি আর এক ডবল ইঞ্জিন রাজ্য মহারাষ্ট্রও আরবিআইয়ে খাতা এবং ডিবিটি মিশন কোড খোলেনি। গত মঙ্গলবারও দিল্লিতে সব রাজ্যের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি সতর্ক করা হয়েছিল। তাও এখনো হাত গুটিয়ে বসে গুজরাত।
নতুন প্রকল্পে কোথায় কী অগ্রগতি, রবিবার তার প্রাথমিক পর্যালোচনা বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। সব রাজ্যের সঙ্গে ভার্চুয়াল ওই বৈঠকেই বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। গুজরাত, মহারাষ্ট্রের নাম নিয়ে বলেন, ‘অনুগ্রহ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় কাজগুলি সেরে ফেলুন। নাহলে কাজ গতি হারাবে।’ মন্ত্রী বলেছেন, ‘ভিবি-জি রাম জি মসৃণভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ। বিষয়টি যেন কোনোভাবেই মনরেগার মতো না নয়। যা পুরো দেশে শুরু করতে তিন বছর সময় লেগেছিল। এক্ষেত্রে তা করলে চলবে না। কোনো শ্রমিক যেন কাজ চেয়ে ফিরে না যায়। কোনো রাজ্যেই যেন দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকার কম না হয়।’
দেশজুড়ে প্রকল্পের কাজ শুরু এবং মসৃণভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে রবিবারই সব রাজ্যকেই কেন্দ্রের পক্ষে আগামী (জুলাই-সেপ্টম্বর) তিন মাসের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হল। দেওয়া হল ২৫,৮৬৩ কোটি টাকা। যার মধ্যে গুজরাতকেও দেওয়া হয়েছে ৩১০ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা। মহারাষ্ট্র ১,৪৫৯ কোটি ৯২ লক্ষ টাকা। পশ্চিমবঙ্গ পেল ১,২৬৪ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকা। ১০০ দিনের কাজের শেষ করে ১২৫ দিনের কাজের নতুন গ্রামীণ রোজগার প্রকল্পে মোট খরচের মধ্যে কেন্দ্র দেবে ৬০ শতাংশ। রাজ্যকে দিতে হবে ৪০ শতাংশ। সেই হিসেবে আগামী তিন মাসের জন্য পশ্চিমবঙ্গকে খরচ করতে হবে ৮৪২.৯৯ কোটি টাকা। যা এখনই দিতেই রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছেন শিবরাজ সিং চৌহান।
স্রেফ টাকা নিলেই হবে না। কাজও করতে হবে বলেই রাজ্যগুলিকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন শিবরাজ। প্রাথমিক পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি বলেন, ‘প্রথম সপ্তাহেই বিপুল সংখ্যক গ্রাম পঞ্চায়েতে কাজ শুরু হয়েছে। বিশেষভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরল ও রাজস্থানকে আমি প্রশংসা করছি। তবে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে এখনো সব গ্রাম পঞ্চায়েতে কাজ শুরু হয়নি। ঝাড়খণ্ড এখনও প্রকল্পের বিজ্ঞপ্তি জারিই করেনি। দ্রুত এসব করে ফেলুন।’