Bartaman Logo
২৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বেতড়-বাকসাড়া রেলগেটে অবশেষে হবে আন্ডারপাস, যান নিয়ন্ত্রণে পুলিশ

হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে অবশেষে কয়েক দশকের ভোগান্তি কাটতে চলেছে বাকসাড়াবাসীর। বেতড় রেলগেট এবং বাকসাড়া-জানা গেট লেভেল ক্রসিংয়ে যানজটের সমস্যা মেটাতে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে আন্ডারপাস নির্মাণের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব রেল।

বেতড়-বাকসাড়া রেলগেটে অবশেষে  হবে আন্ডারপাস, যান নিয়ন্ত্রণে পুলিশ
  • ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে অবশেষে কয়েক দশকের ভোগান্তি কাটতে চলেছে বাকসাড়াবাসীর। বেতড় রেলগেট এবং বাকসাড়া-জানা গেট লেভেল ক্রসিংয়ে যানজটের সমস্যা মেটাতে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে আন্ডারপাস নির্মাণের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব রেল। ততদিন পর্যন্ত সকাল ও বিকালের ব্যস্ত সময়ে অপ্রয়োজনে ট্রেন দাঁড় করানো বা ইঞ্জিন শান্টিংয়ে মতো ঘটনা এড়ানোর পাশাপাশি রেলগেটে রেল পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

সাঁতরাগাছি ও শালিমারের মধ্যে অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকায় থাকা এই দুই লেভেল ক্রসিংয়ে নিয়মিত ট্রেন দাঁড় করানো ও ইঞ্জিন শান্টিংয়ের জেরে দীর্ঘক্ষণ রাস্তা বন্ধ হয়ে থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর ফলে স্কুলপড়ুয়া, অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে জরুরি পরিষেবার গাড়িগুলিকেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয় বলে অভিযোগ। এমনকি, যানজটে আটকে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেছেন এলাকাবাসী। এই সমস্যার জেরে বহু পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দা বিক্রম চট্টোপাধ্যায় ও মুনিয়া ঘোষ কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন। গত ২৭ এপ্রিল আদালত যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেয় রেলকে। সেই নির্দেশ মেনেই চলতি মাসে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের তরফে ‘রিজনড অর্ডার’ জারি করা হয়েছে। রেলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকাল ৪টে থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শান্টিং ব্লক নিয়ন্ত্রণ করবেন সিনিয়র ডিভিশনাল অপারেশনস ম্যানেজার ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। ঠিক হয়েছে, অপ্রয়োজনে ট্রেন বা ইঞ্জিন দাঁড় করিয়ে রেলগেটের রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। পাশাপাশি দিনের ব্যস্ত সময়ে বেতড় রেলগেটে রেল পুলিশ ও আরপিএফ মোতায়েন করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে।
শুধু তাই নয়, আন্ডারপাস তৈরির বিষয়টি নিয়েও চূড়ান্ত সময়সীমা জানিয়েছে রেল। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের দাবি, ইতিমধ্যেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। নির্মাণকারী সংস্থাকে ‘লেটার অব অথরিটি’ দেওয়া হয়েছে। ভূগর্ভস্থ তার সরানো ও স্ট্রাকচারাল শিট পাইলিংয়ের মতো প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। বর্ষার কারণে এখন সমস্যা হলেও পরবর্তীকালে দ্রুত কাজ করে আগামী বছরের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। রেলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে স্বস্তি ফিরেছে এলাকার মানুষের। পিটিশনার বিক্রমবাবু ও মুনিয়াদেবীর কথায়, ‘এটা গোটা বাকসাড়াবাসীর জয়। হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে এবার পাকাপাকিভাবে মিটবে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ