Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

রাশিয়ার ঘুম কেড়েছে ইউক্রেনের রোবট বাহিনী

ওদের কোনো খাবার লাগে না। তেষ্টা মেটাতে জলেরও প্রয়োজন নেই। রুশ সেনার বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এই বিশেষ বাহিনীকে কাজে লাগাচ্ছে ইউক্রেন।

রাশিয়ার ঘুম কেড়েছে ইউক্রেনের রোবট বাহিনী
  • ১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

কিয়েভ: ওদের কোনো খাবার লাগে না। তেষ্টা মেটাতে জলেরও প্রয়োজন নেই। রুশ সেনার বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এই বিশেষ বাহিনীকে কাজে লাগাচ্ছে ইউক্রেন। তাতে রয়েছে বিস্ফোরক বোঝাই করা রোবট। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সংবাদমাধ্যম রিপোর্ট অনুযায়ী, ড্রোনের মাধ্যমে রোবটদের হামলা পরিচালনা করা হয়। দূরে কমান্ড সেন্টারে বসে রণকৌশল তৈরি করেন সেনা আধিকারিকরা। অর্থাৎ, সরাসরি রণাঙ্গনে না গিয়েই এই যন্ত্রসেনাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। রক্তমাংসের যোদ্ধার প্রয়োজনই পড়ে না। এভাবেই যন্ত্র বাহিনীর সাহায্যে সীমান্তে শত্রুপক্ষের ঘুম ওড়াচ্ছে কিয়েভ।

Advertisement

সামরিক শক্তিতে পুতিন বাহিনীর তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে ভোলোদামির জেলেনস্কির দেশ। পশ্চিম থেকে অস্ত্র আসছে ঠিকই। তবে আর কতদিন সেই সাহায্য মিলবে তা স্পষ্ট নয়। এদিকে যুদ্ধে হাজার হাজার সেনার মৃত্যু হচ্ছে। তৈরি হয়েছে সেনা সংকট। তা সত্ত্বেও চার বছর ধরে ক্রেমলিনের চোখে চোখ রেখে দিব্যি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে কিয়েভ। রুশ সেনাকে পরাস্ত করে একাধিক সেনাঘাঁটি দখল করেছে জেলেনস্কি বাহিনী। অভূতপূর্ব এই সাফল্যে সেনার বিকল্প হিসাবে রোবটদের বেছে নিয়েছে তারা। যুদ্ধক্ষেত্রে এরাই মুখ্য ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গিয়েছে। হামলা চালানোর পাশাপাশি আহত সেনাদের উদ্ধার পর্যন্ত করছে এই বিশেষ কমান্ডো বাহিনী।
গত এপ্রিলে জেলেনস্কি দাবি করেন, এই প্রথমবার ড্রোন ও রোবটের সাহায্যে রুশ সেনাচৌকি দখল করেছে ইউক্রেন। তিনি আরও জানান, চলতি বছরে কমপক্ষে ২২ হাজার অভিযান চালিয়েছে এই যন্ত্রসেনা। ইউক্রেনের এই বিশেষ বাহিনীকে ‘সাইলেন্ট ডেথ’ নাম দিয়েছেন রুশ সেনার সদস্যরা। কারণ, ওরা নিঃশব্দে আক্রমণ করে। অনেক ক্ষেত্রে ১০ মিটার কাছে এলে তবেই এই যন্ত্রসেনার উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। তখন পালটা হামলা চালানোর আর কোনো উপায় থাকে না। ইউক্রেনের এক সেনাকর্তা বলেন, ‘এই ধরনের যন্ত্রসেনা আগে হাতে এলে সেনার বহু সদস্যকে বাঁচানো যেত।’ তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে পেশীশক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ হত। তখন সেনার দক্ষতাই আসল ছিল। এখন প্রযুক্তিই শেষ কথা। এছাড়া আর উপায় নেই।’  ইউক্রেনের সেনা আধিকারিকরা জানিয়েছেন, প্রতি মাসে ৩৫ হাজার রুশ সেনাকে খতম করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা জিসিএইচকিউ’র তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ লক্ষ রুশ সেনার মৃত্যু হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ