চিলাখালি গ্রামে পাশাপাশি দুই পুজো মনে করায় স্মৃতি আর ঐতিহ্যকে
  • ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তেহট্ট: মণ্ডপে, মণ্ডপে সাজসজ্জার লড়াই। প্রতিমায় থাকছে নান্দনিকতার ছোঁয়া। বাজেটেও একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা। তবে এই প্রতিযোগিতার আড়ালে রয়েছে দীর্ঘদিনের আন্তরিকতা ও সম্প্রীতির বন্ধন। তেহট্ট থানার চিলাখালি গ্রামে পাশাপাশি দু’টি দুর্গাপুজো ঘিরে এখন সাজো সাজো রব। ঢাকা ও কুষ্টিয়া সম্প্রদায়ের মানুষের উদ্যোগে আয়োজিত এই দুই পুজো শুধু এলাকার আকর্ষণই নয়, দুই বাংলার স্মৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক ঐতিহ্যেরও পরিচয় বহন করছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশভাগের পর অধুনা বাংলাদেশের ঢাকা ও কুষ্টিয়া থেকে বহু পরিবার এসে এই চিলাখালি গ্রামে বাস শুরু করেন। পূর্বপুরুষদের পুজোর ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ আলাদা ভাবে দুর্গাপুজো শুরু করেন। প্রথম দিকে আয়োজন ছিল ছোটো পরিসরে। সময়ের সঙ্গে পরিবারের সংখ্যা বেড়েছে। বেড়েছে পুজোর পরিধিও। বর্তমানে বাসস্টপ সংলগ্ন মাঠে পাশাপাশি দু’টি বড়ো মণ্ডপ হচ্ছে। দুই পুজোই এবার ৩৫ তম বর্ষে পা দিচ্ছে বলে উদ্যোক্তারা জানান। পুজোকে কেন্দ্র করে এখন দুই সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে ব্যস্ততা তুঙ্গে।
একই জায়গায় পাশাপাশি দু’টি পুজো হলেও আয়োজনের ক্ষেত্রে রয়েছে নিজস্ব ভাবনা। মণ্ডপসজ্জা থেকে প্রতিমা সবেতেই দর্শনার্থীদের নজর কাড়ার চেষ্টা করছেন উদ্যোক্তারা। আর সেই আকর্ষণেই পুজোর দিনগুলিতে চিলাখালিতে ভিড় জমান আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
কুষ্টিয়া সম্প্রদায়ের সদস্য নির্মল পাল জানান, এ বারের পুজোর বাজেট প্রায় চার লক্ষ টাকা। সম্প্রদায়ের সদস্যদের দানেই পুজোর যাবতীয় খরচ মেটানো হয়। অন্য দিকে, ঢাকা সম্প্রদায়ের পুজোর বাজেট প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। ওই সম্প্রদায়ের সদস্য অরুণ বিশ্বাস জানান, তাঁদের পুজোও মূলত সদস্যদের অনুদানের উপরই নির্ভরশীল।
দুটি পুজোর আয়োজন পৃথক হলেও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে একই পথে হাঁটছেন উদ্যোক্তারা। উভয় মণ্ডপেই সামাজিক সুরক্ষা, জলের প্রয়োজনীয়তা ও অপচয় রোধ নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে। পাশাপাশি থাকবে ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’-এর মতো বার্তাও।