


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ডে ছিনতাইবাজদের হামলায় আক্রান্ত হলেন পুরুলিয়ার দুই শ্রমিক। অভিযোগ, বাসস্ট্যান্ডে বসে তাঁরা যখন ভোরের বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তখন ধারালো অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুষ্কৃতীরা। টাকা, মোবাইল ফোন সহ যা যা ছিল, সব ছিনিয়ে নেয় তারা। বাধা দিতে গেলে এলোপাথারি কোপ মারে। গুরুতর জখম অবস্থায় দু’জনেই পড়ে থাকেন রাস্তায়। পরে পুলিশ এসে তাঁদের উদ্ধার করে হাওড়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ডে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আহতদের নাম আস্তিক মাহাত ও বিবেক মাহাত। বাড়ি পুরুলিয়ার ঝালদা থানার জামলোহার গ্রামে। দু’জনেই বড়বাজার এলাকায় কাজের জন্য এসেছিলেন। ফেরার পথে পুরুলিয়াগামী বাস ধরার জন্য রাত কাটাচ্ছিলেন স্টেশন সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ডে। সেই সময় আচমকা দুই দুষ্কৃতী এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ছিনতাইবাজদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত হন তাঁরা। তাঁরা বর্তমানে হাওড়া জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। খবর পেয়ে তৎপর হয়ে ওঠে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এই ঘটনায় উত্তর হাওড়ায় বেড়ে চলা দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে।
শুক্রবার সকালে হাসপাতালে পৌঁছয় বিজেপির জেলা নেতৃত্ব। দলের দাবি, আক্রান্তরা পরিযায়ী শ্রমিক। বিজেপি যুব নেতা ওমপ্রকাশ সিং বলেন, ‘পুরুলিয়ার সাংসদ জোতির্ময় সিং মাহাত আমাদের বিষয়টি জানান। তাঁর নির্দেশেই আমরা হাসপাতালে এসেছি। ভিন রাজ্যে শ্রমিক আক্রান্ত হলে তৃণমূল সরব হয়। এ রাজ্যে স্টেশন চত্বরে শ্রমিক আক্রান্ত, এখন কী বলবে?’ দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে বিজেপি।
অন্যদিকে পালটা সুর শাসকদলের। তৃণমূলের হাওড়া জেলা সদরের যুব সভাপতি কৈলাশ মিশ্র বলেন, ‘রেল স্টেশন এলাকার দায়িত্ব শুধু রাজ্য পুলিশের নয়, আরপিএফেরও। তারা কী করছিল? আক্রান্তদের পাশে তৃণমূল আছে।’ হাওড়া সিটি পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, ‘আটক দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে স্টেশন চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।