


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গবেষণার জন্য যাদবপুরের কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড রিসার্চের ল্যাবরেটরিতে থাকা প্ল্যাটিনামের দু’টি গ্লাস চুরি করে গ্রেপ্তার সেখানকার এক চুক্তিভিত্তিক কর্মী। রবিবার রাতে অর্ণব সর্দার নামের ওই কর্মীকে নরেন্দ্রপুর থেকে পাকড়াও করেছে যাদবপুর থানার পুলিশ। তার বিরুদ্ধে প্রায় কুড়ি লক্ষ টাকা দামের সামগ্রী চুরির অভিযোগ রয়েছে। তাকে জেরা করে ওই গ্লাস দু’টি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যাদবপুরের কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড রিসার্চে বিভিন্ন বিষয়ের উপর গবেষণা চলে। সেখানকার ল্যাবরেটরিতে ধাতু পরীক্ষার জন্য প্ল্যাটিনামের দু’টি গ্লাস ছিল। যার বাজারমূল্য প্রায় কুড়ি লক্ষ টাকা। জানুয়ারি মাসের প্রথম থেকেই ওই গ্লাস দু’টি পাওয়া যাচ্ছিল না। যে কারণে গবেষণার কাজে অসুবিধা হচ্ছিল। প্রতিষ্ঠানের তরফে খোঁজাখুঁজি করলেও তা পাওয়া যায়নি। সিসি ক্যামেরা দেখেও ধরা পড়েনি কে বা কারা এটি সরিয়েছে। কর্তৃপক্ষ খেয়াল করে, সেখানকার চুক্তিভিত্তিক কর্মী অর্ণব অনেকদিন ধরেই কাজে আসছে না। ফোনেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। সন্দেহের বশেই ফেব্রুয়ারি মাসে কর্তৃপক্ষ যাদবপুর থানায় চুরির অভিযোগ জানায়।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, অর্ণব বছর দশেক ধরে এখানে কাজ করছে। ল্যাবরেটরিতে তার যাতায়াত রয়েছে। প্ল্যাটিনামের গ্লাস কোথায় থাকত, তা সে জানত। ওই গ্লাস যে অর্ণবই হাতিয়েছে, এই সংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণ হাতে আসার পর রবিবার রাতে নরেন্দ্রপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে যাদবপুর থানার পুলিশ। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, অনেকদিন ধরেই সে গ্লাস দু’টি হাতানোর ছক কষেছিল। এগুলি যে দামি, তা সে জানত। কোনো গবেষকের কাছে সেগুলি বিক্রি করার ফন্দি ছিল তার। গ্লাস দু’টি বিক্রির জন্য বিভিন্ন লোকের সঙ্গে কথাও বলেছিল অর্ণব। কিন্তু কাগজপত্র না থাকায় কেউ কিনতে চাইছিলেন না। তার পরিকল্পনা ছিল, প্ল্যাটিনামের গ্লাস দু’টি বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যাবে, তা দিয়ে সহজেই দেনা মিটিয়ে দেওয়া। সোমবার ধৃতকে আলিপুর আদালতে তোলা হলে সরকারি আইনজীবী সাজ্জাদ আলি খান বলেন, অভিযুক্ত চুরিতে জড়িত, তার প্রমাণ মিলেছে। ধৃতকে জেরা করে চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করা হবে। তাই পুলিশি হেপাজতের প্রয়োজন। সওয়াল শেষে বিচারক অভিযুক্তকে পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন।