


সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বছর দু’য়েক আগে কলকাতায় এসেছিলেন তাঁরা। ধর্মীয় স্থানগুলি ঘুরতে ঘুরতে মে মাসে গিয়েছিলেন সাগরের কপিলমুনি আশ্রমে। সমুদ্র সৈকত তখন ছিল ফাঁকা। ভিড় কোলাহল ছিল না। দেশে ফিরে গিয়ে ইন্টারনেটে পড়েছিলেন, সাগরদ্বীপে ভারতবর্ষের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসমাগম হয়। মেলার সময় একটা মিনি ভারতবর্ষ উঠে আসে এই ছোটো দ্বীপে। অবাক হয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা। এবার মেলা চাক্ষুষ করতে আবার ফ্রান্সের প্যারিস থেকে কলকাতায় চলে এসেছেন ফেলিক্স ও রদ্রিগেস নামে দুই ভাই। কলকাতায় পা রেখেই সোজা চলে এসেছেন গঙ্গাসাগরে। মেলা ঘুরে দেখে অভিভূত তাঁরা। ১০ দিন কাটাবেন শহরে। মেলা শুরুর প্রাক্কালে এক দফা ঘুরে গিয়েছেন। আবার পুণ্যস্নানের লগ্নে আসবেন বলে জানান দু’জনে। কীভাবে এত মানুষের ভিড় হয়, কী হয় সেদিনটিতে, সেটাই উপভোগ করতে চাইছেন ফরাসি দুই পর্যটক।
মকর সংক্রান্তির আগে থেকেই সাগরে অল্প অল্প করে পুণ্যার্থীর ভিড় শুরু হয়েছে। ভিন রাজ্য থেকে দলে দলে তীর্থযাত্রীরা আসছেন। সেই ভিড়েই ফরাসি পর্যটকদের দেখা গেল ঘুরে ঘুরে শুধু আয়োজন দেখছেন, ছবি তুলছেন। এত লোকের সমাগম একটি জায়গায় কী করে হয়, সেটা দেখে অবাক তাঁরা। চারদিকে আলো, বিভিন্ন হোর্ডিং, সামাজিক বার্তা দেখে তাজ্জব। ফেলিক্স বলেন, ‘ইন্টারনেটে পড়েছিলাম এই মেলার ব্যাপারে। কিন্তু এখানে এসে দেখছি আয়োজনের কী বহর। না এলেই বুঝতে পারতাম না এই উৎসবে মানুষের উৎসাহ দেখছি। অনেক লোকের সঙ্গে দেখা হয়েছে, তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। এ এক অন্য অভিজ্ঞতা। ১৪ তারিখ একটা বিশেষ দিন বলে শুনেছি। তাই সেদিন আরও একবার এখানে এসে সেই পরিবেশ উপভোগ করতে চাই।’ তবে বাকিদের সঙ্গে সমুদ্রে ডুব দেবেন কি না তা এখনও ভেবে দেখেননি।
জানা গিয়েছে, দুই ভাই অবসর জীবন কাটাচ্ছেন। বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়ান। এবার এই সময়টা গঙ্গাসাগর মেলায় আসার জন্য ভেবে রেখেছিলেন। গঙ্গাসাগর মেলায় বিদেশি পর্যটক আগেও এসেছে। বেশিরভাগই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ব্যাপারে জেনে এসেছে। কিন্তু একবার ঘুরে যাওয়ার পর দ্বিতীয়বার এসেছেন, এমন উদাহরণ তেমন নেই বলে অনেকের অভিমত। তবে এই ফরাসি পর্যটক ভাইদের বিষয়টি একটু আলাদা। একবার সাগর ঘুরে গিয়েও ফের এসেছেন শুধু মেলা দেখতে। এখানে আসতে পেরে খুব ভালো লেগেছে বলে দু’জনেই জানিয়েছেন। দ্বীপে বিদেশি পর্যটক দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে কথা বলেছেন। কেউ তাঁদের সঙ্গে ছবিও তুলেছেন। -নিজস্ব চিত্র