সংবাদদাতা, বারুইপুর: বারুইপুরের পিয়ালী খোলাঘাটায় বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের পরে নড়েচড়ে বসল বারুইপুর পুলিশ জেলা প্রশাসন। শুক্রবার চম্পাহাটি হাড়ালে বাজি সংগঠন ও বাজি ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠকে বসে বারুইপুর পুলিশ জেলা প্রশাসন। ছিলেন বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার অতীশ বিশ্বাস, বারুইপুর থানার আই সি শান্তনু মিত্র। দুদিনের মধ্যে নিষিদ্ধ বাজিসহ বাজির মশলা পুলিশের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। অন্যথায় কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি। বৈঠক থেকে ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়, যাঁদের গ্রিন বাজি ব্যবসার অনুমতি আছে, তাঁরা কারবার চালাতে পারবেন। লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করা যাবে না। এদিকে, বৃহস্পতিবার বাজি বিস্ফোরণের ঘটনায় বারুইপুর থানার পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে দুই শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি, শুক্রবার অভিযান চালিয়ে পিয়ালী খোলাঘাটা এলাকা থেকে প্রচুর নিষিদ্ধ বাজি, মশলা উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযান চলবে।
এদিন বৈঠকে বারুইপুর দমকলের আধিকারিকরাও ছিলেন। বারংবার হাড়াল, পিয়ালীর বাজি ব্যবসায়ীদের পুলিশ প্রশাসন থেকে সতর্ক করা হয়েছিল। তারপরেও হুঁশ ফেরেনি ব্যবসায়ীদের। গত জানুয়ারিতে হাড়ালে বাজি বিস্ফোরণে তিনজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। জানা গিয়েছে, হাড়ালের অধিকাংশ বাজির দোকানে অগ্নিনির্বাপক মেশিন নেই। এমনকি, অনেক দোকানে মেশিনের মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছে। এই ব্যাপারে এদিনের বৈঠক থেকে দমকল থেকে সতর্ক করা হয়। বৈঠকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, বেআইনিভাবে বাজি নির্মাণ বরদাস্ত হবে না। প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করে কাজ করতে হবে। সরকারি নিয়ম মেনে যারা বাজি তৈরি করছেন তাঁদের লাইসেন্স পেতে সাহায্য করা হবে। তবে হাড়াল ও পিয়ালীতে বেআইনি বাজি ব্যবসা কতটা পুলিশ প্রশাসন বন্ধ করতে পারবে তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।
অন্যদিকে, বিস্ফোরণের ঘটনায় দুজন আহতের মধ্যে কারখানার মালিকের স্ত্রী পদ্মরানি নস্করের অবস্থা সংকটজনক। কারখানার শ্রমিক আব্বাস গাজির অবস্থা স্থিতিশীল। যদিও কারখানার মালিক বাপি নস্কর সহ অন্য কর্মীদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। পুলিশ খোঁজ চালাচ্ছে।