সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: মঙ্গলবার সাতসকালে বিষ্ণুপুরের আমডহরা গ্রামে একটি পুরো বাড়ি ধসে আড়াই বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। মৃতের নাম তামিম খান। এই ঘটনায় ওই শিশুর মা এবং দুই সম্পর্কিত দিদিও জখম হয়েছেন। তাঁরা বিষ্ণুপুর সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এদিন সকালে খড়ের ছাউনি দেওয়া ছিটেবেড়ার ঘরে মা মোহেদা খান, দুই কিশোরী রুমা খান ও রিয়া চৌধুরী এবং ওই শিশুপুত্র ছিল। হঠাৎ বাড়িটি ধসে পড়ায় চারজনই চাপা পড়ে যান। পরিবারের অন্য সদস্য এবং পড়শিরা ভাঙা দেওয়াল সরিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে বিষ্ণুপুর সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক ওই একরত্তি শিশুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে বাঁকাদহ পঞ্চায়েতের প্রধান রামপ্রসাদ সাহা এলাকায় পৌঁছান। পরে বিষ্ণুপুরের বিডিও সোমশঙ্কর মণ্ডল সেখানে যান। বিডিও বলেন, মৃতের পরিবার আবাস যোজনায় প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছিল। কিন্তু জায়গার অভাবে বাড়ি তৈরি শুরু করতে পারেনি। আমরা ওই পরিবারের পাশে আছি। প্রশাসনের তরফে তাঁদের থাকার জন্য আপৎকালীন ব্যবস্থা করা হবে। তাঁরা যাতে বাড়ি তৈরি করতে পারেন, তা দেখা হবে।
মৃত শিশুর বাবা নাজিমুদ্দিন খান কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমি সকালে কাজে বেরচ্ছিলাম। উঠোনে আসতেই আমার চোখের সামনে বাড়িটা ধসে পড়ল। ভিতরে স্ত্রী, ছেলে ও দুই ভাইঝি ছিল। স্ত্রী ও ভাইঝিদের রক্ষা করতে পারলেও ছেলেটাকে বাঁচাতে পারলাম না।
এদিন সকালে আমডহরায় গিয়ে দেখা গেল, ফুটবল মাঠের ধারে নাজমুদ্দিন খানের বাড়িটি সম্পূর্ণ মাটিতে মিশে গিয়েছে। এলাকায় কান্নার রোল উঠেছে। প্রচুর মানুষ ভিড় জমিয়েছেন। তামিমের মৃত্যুর খবর এসে পৌঁছাতেই নাজমুদ্দিনের মা মনসুরা খান কান্নায় ভেঙে পড়েন। নাজমুদ্দিনের বাবা নিম্বর খান কাজে বেরিয়েছিলেন। নাতির মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
বিজেপির বিষ্ণুপুর ২নম্বর মণ্ডল সভাপতি সঞ্জয় সিং মৃত শিশুর বাড়ির লোকেদের সমবেদনা জানান। খানিক পরে বিডিও এসে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। এই ঘটনায় আমডহরা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।