ওয়াশিংটন ও তেহরান: হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান যদি কথা না কথা শোনে, তাহলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে আমেরিকা। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরান যদি হরমুজ প্রণালী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ খুলে না দেয়, তাহলে আমেরিকা ওদের বিভিন্ন পাওয়ার প্লান্টগুলিকে ধ্বংস করে দেবে। সবচেয়ে বড়ো বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে সবার আগে টার্গেট করা হবে।’ ওই পোস্ট করার সময় থেকেই কাউন্টডাউন শুরু হল বলেও জানান ট্রাম্প। শুক্রবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানে সামরিক তত্পরতা গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু একদিনের মধ্যেই তিনি ইরানের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিলেন।
তবে, এরপরেও দমে যেতে নারাজ ইরান। পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ পালটা জানিয়েছেন, যদি তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রকে টার্গেট করা হয়, তবে গোটা পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে যত বিদ্যুত্, তেল উত্তোলন, তথ্যপ্রযুক্তি এবং পানীয় জল পরিশোধন কেন্দ্র রয়েছে, তার সব কটি ধ্বংস করে দেবে তেহরান। পানীয় জল পরিশোধন কেন্দ্রগুলিতে যদি হামলা হয়, তাহলে মরুভূমি প্রধান পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশগুলি ব্যাপক সমস্যায় পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে জলের হাহাকার দেখা দিতে পারে। এদিকে, শত্রুদেশ ছাড়া সকলের জন্যই হরমুজ খোলা বলেও ফের একবার জানিয়ে দিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাই-জেশনে তেহরানের মুখপাত্র আলি মৌসাভি রবিবার জানিয়েছেন, ইরানের শত্রুদের সঙ্গে যুক্ত নয়, এমন জাহাজ তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করে হরমুজ পেরতে পারবে।
ইরানের হাত থেকে হরমুজ প্রণালীকে মুক্ত করার জন্য গত কয়েকদিন ধরে সবরকমভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু কোনোটাই ফলপ্রসূ হয়নি। হরমুজে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য মিত্র দেশগুলির কাছেও সাহায্য চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই দেশগুলি স্রেফ আলোচনাই করেছে, কিন্তু রবিবার পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সেই কারণে ন্যাটো দেশগুলিকে কাপুরুষও বলেছেন ট্রাম্প। এদিকে, হরমুজে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলে বাধানিষেধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমশ চড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। তাই মরিয়া হয়েই ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানে প্রায় ৪০০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম বুশহরের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র। তবে, ইরানের হুঁশিয়ারিকেও হালকাভাবে নেওয়ার কারণ নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, তেহরানের হাতে যে শক্তিশালী মিসাইল রয়েছে, তা বুঝিয়ে দিয়েছে তারা। তাই আমেরিকা হামলা চালালেও, তা একতরফা হবে না বলেই আশঙ্কা করছে ওয়াকিবহাল মহল।