Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তৈরির পরেও দু’বছর ধরে পড়ে রয়েছে নুঙ্গি জেটিঘাট

তৈরির পরেও দু’বছর ধরে পড়ে রয়েছে নুঙ্গি জেটিঘাট
  • ১৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, বজবজ: দু’বছর আগে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে, ঢাকঢোল পিটিয়ে মহেশতলার বাটায় নুঙ্গি জেটিঘাটের উদ্বোধন হয়েছিল।  স্থায়ী জেটিঘাট থেকে টিকিটঘর, যাত্রীদের প্রতিক্ষালয়, শৌচাগার– সবই হয়েছে। চারদিক আলো দিয়ে সাজানো। উদ্বোধনের দিন আগে থেকে একটি ভেসেল এনে জেটিঘাটে দাঁড় করিয়েও রাখা হয়েছিল। কিন্তু ওই একদিনই ভেসেলটিকে চোখের দেখা দেখেছিলেন এই অঞ্চলের বাসিন্দারা। প্রতিদিন নুঙ্গি থেকে হাওড়ার সারেঙ্গা ও হীরাপুরে যান যাঁরা, ওই ভেসেল দেখে স্বস্তি পেয়েছিলেন তাঁরাও। কিন্তু তাল কাটল তারপরের দিনই। নিত্যযাত্রীরা সকালে জেটিঘাটে এসে দেখেন, ভেসেল উধাও। সেই আগের মতো ভুটভুটি চলছে। ভেসেল নেই কেন? উত্তর দেওয়ার কেউ নেই। এরপর দু’বছর কেটে গিয়েছে। কিন্তু নুঙ্গি জেটিঘাটের সেই আগের ছবির একটুও বদল হয়নি। ভেসেলের বদলে ভুটভুটিই চলাচল করছে। বাধ্য হয়ে তাতে করেই যাতায়াত করতে হচ্ছে যাত্রীদের।
Advertisement
এদিকে, দীর্ঘ সময় জেটিঘাট অলসভাবে পড়ে থাকার জন্য কাঠের পাটাতনের অনেক জায়গা ভেঙে গিয়েছে। যাত্রী প্রতীক্ষালয়ের দরজায় তালা দেওয়া। ভিতরে জলের পাম্প খারাপ হয়ে পড়ে আছে। জল নেই। ভেসেল চালু হবে বলে পরিবহণ দপ্তর থেকে দু’জন কর্মীকে বসানো হয়েছিল টিকিট দেওয়ার জন্য। কিন্তু ভেসেলই চালু না হওয়ায় কর্মী দু’জন রোজ ডিউটিতে আসেন, তারপর বসে থেকে থেকে চলে যান।
এত অর্থ খরচ করে তৈরি জেটিঘাটটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে কেন? রাজ্য পরিবহণ দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, নুঙ্গি জেটিঘাটটি  তৈরির আগে ওইখানে জল যতটা গভীর ছিল, তা ধরে নিয়ে গ্যাংওয়ে এবং তার সঙ্গে পন্টুন বসানো হয়েছিল। কিন্তু এরপর খুব দ্রুত ওই জায়গায় পাড় ভাঙতে থাকে। এখন দেখা যাচ্ছে, ভাটার সময় অনেকটা চড়া পড়ে যাচ্ছে,  জলও অনেকটা দূরে চলে যাচ্ছে। এর ফলে ভেসেল এসে জেটির গায়ে দাঁড়াতে পারছে না। এজন্যই তা পড়ে রয়েছে। সম্প্রতি ওই ঘাটটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে এসেছেন পরিবহণ দপ্তরের বাস্তুকাররা। আপাতত ঠিক হয়েছে, সাগরমেলার পর এটি নতুনভাবে সংস্কার হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ