Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ট্রেন থেকে সহযাত্রীকে ফেলে খুনের   মামলায় বহাল যাবজ্জীবনের নির্দেশ

ট্রেন থেকে সহযাত্রীকে ফেলে খুনের   মামলায় বহাল যাবজ্জীবনের নির্দেশ
  • ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ট্রেনের কামরায় আকছাড় ঝুট-ঝামেলা লেগেই থাকে। কিন্তু তার পরিণতি যে এত ভয়াবহ হবে, তা কল্পনা করতে পারেননি শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার নিত্যযাত্রী সৌদামিনী মণ্ডল। ওই ছোট্ট ভুলের জন্য এবার বাকি জীবন তাঁকে জেলেই কাটাতে হবে।
Advertisement
২০১৭ সালের ১০ মে’র ঘটনা। লক্ষ্মীকান্তপুর লোকালে লেডিস কামরায় নিছক সিট রাখা নিয়ে ঝামেলা। আর তাতেই ঘটে যায় ধুন্ধুমার কাণ্ড। ওই ট্রেনের নিত্যযাত্রী ছিলেন পদ্মাবতী মণ্ডল। পদ্মাবতীর সঙ্গে সৌদামিনী ও আরও কয়েকজন নিত্যযাত্রীর টুকটাক ঝামেলা লেগেই থাকত। ওইদিন শিয়ালদহ স্টেশনে সিট রাখা নিয়ে তুমুল ঝামেলা হয়। শিয়ালদহ থেকে ট্রেন ছাড়ার পরও ঝামেলা কমেনি, বরং উত্তরোত্তর বাড়ে। সৌদামিনী ও অন্য এক সহযাত্রী দুর্গার সঙ্গে পদ্মাবতীর কথা কাটাকাটি চলতে থাকে। 
এরপর জয়নগর স্টেশনে ট্রেন পৌঁছনোর উপক্রম হলে পদ্মাবতীকে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা মারে সৌদামিনী। জয়নগর স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পড়ে যান পদ্মাবতী। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করেন প্ল্যাটফর্মে থাকা লোকজন। পাঁচদিন পর তিনি মারা যান সেখানে। কিন্তু মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে তিনি জানিয়েছিলেন, প্রথমে দুর্গা তাঁর চোখে তরল জাতীয় কিছু ছুড়ে মারে। তারপর চোখ জ্বালা করতে শুরু করে। সেই সময় সৌদামিনী আচমকা তাঁকে ধাক্কা মেরে ট্রেন থেকে ফেলে দেয়।
অন্য যাত্রীদের তৎপরতায় তখনই সৌদামিনীকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। এরপর নিম্ন আদালতে বিচার চলাকালীন অনামিকা পাইক নামের এক সহযাত্রী সাক্ষী হিসেবে বয়ান দেন ও সৌদামিনীকেই মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও স্পষ্ট উল্লেখ ছিল, মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই ট্রেন থেকে ধাক্কা মারা হয়েছে। সমস্ত কিছু যাচাই করার পর সৌদামিনীকে যাবজ্জীবন কারাবাসের নির্দেশ দেয় শিয়ালদহ আদালত। 
নিম্ন আদালতের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সৌদামিনী। যাবতীয় সওয়াল জবাব শোনার পর নিম্ন আদালতের নির্দেশ বহাল রেখে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, এটা স্পষ্ট যে পদ্মাবতীকে মেরে ফেলার জন্যই ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল। তাই নিম্ন আদালতের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করছে না হাইকোর্ট। 
সম্পর্কিত সংবাদ