নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাওড়ার নিশ্চিন্দার বাসিন্দা তবলা শিক্ষক সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় রাত দেড়টা পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় ছিলেন। তারপরই তাঁকে খুন করা হয়েছে। সৌমিত্রবাবুর ইন্টারনেট ব্যবহারের সূত্র ধরেই এই তথ্য হাতে এসেছে রেল পুলিসের। খুনের ঘটনায় ট্রেনে চুরি বা ছিনতাই করে বেড়ানো গ্যাংই জড়িত বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযুক্তের খোঁজে বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। এদিকে তবলা প্রশিক্ষক খুনের ঘটনায় শুক্রবার হাওড়ার ডিআরএমের কাছে ডেপুটেশন দিলেন উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরী। পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি সৌমিত্রবাবুর ছেলের চাকরির দাবি জানিয়েছেন।সৌমিত্রবাবু কাটিহারে যাঁদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তাঁদের সঙ্গে শুক্রবার কথা বলেন তদন্তকারীরা। সকলেই জানিয়েছেন, এখানে তিনি মাঝেমধ্যেই আসতেন তবলা শেখাতে। কাটিহারে তাঁর প্রচুর ছাত্রছাত্রী রয়েছেন। ওই এলাকায় তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিলেন। ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষাও নিতে যেতেন। একইসঙ্গে সেখানে একাধিক অনুষ্ঠানও করে গিয়েছেন। কারও সঙ্গেই তাঁর শত্রুতা ছিল না। যদিও তাঁদের বক্তব্য যাচাই করে দেখছেন তদন্তকারীরা। খুনের তদন্তে নেমে তদন্তকারীরা নিশ্চিত, লুট করাই উদ্দেশ্য ছিল দুষ্কৃতীদের। তা না হলে তাঁর দশ হাজার টাকা ও মোবাইল নিয়ে যেত না। তিনি যে কাটিহার থেকে টাকা নিয়ে ফিরছেন এই খবর কেউ দুষ্কৃতীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল কি না, জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। যাতে সেই সূত্র ধরে সংশ্লিষ্টের কাছে পৌঁছনো যায়। প্রাথমিকভাবে রেল পুলিসের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, রাত দেড়টার পর খুন হয়েছেন সৌমিত্রবাবু। কারণ রাত দেড়টা পর্যন্ত তিনি অনলাইন ছিলেন। তদন্তকারীদের অনুমান, দুষ্কৃতীরা যাত্রী সেজে আগে থেকেই প্রতিবন্ধী কামরায় বসেছিল। তাঁরা মনে করছেন, সৌমিত্রবাবুর কাছে থাকা ব্যাগ লুট করার সময় তাঁর ঘুম ভেঙে গিয়ে থাকতে পারে। সেই সময় তারা ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়েছে। কাটিহার এক্সপ্রেস কাটিহার ছাড়ার পর যে সব স্টেশনে দাঁড়িয়েছে, সেখানকার ক্যামেরার ফুটেজ নেওয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধী বগি থেকে সন্দেহভাজন কেউ ব্যাগ নিয়ে নেমে যাচ্ছে কি না, দেখা হচ্ছে। রেল পুলিস জেনেছে, বিহার-ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া এলাকায় ট্রেনে চুরি-ছিনতাইয়ের একাধিক গ্যাং সক্রিয়। এদের মধ্যে কারা বাইরে রয়েছে সেই তথ্য নিয়েছে তারা।



