সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: সময় সারণি মেনে ট্রেন চালানোর অভ্যাস অনেকদিন আগেই ছেড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব রেল। কোন ট্রেন কখন কোন স্টেশনে ঢুকবে, হলফ করে বলতে পারে না কেউ। ফলে মাঝেমধ্যেই অবরোধে শামিল হন নিত্যযাত্রীরা। বুধবার দক্ষিণ-পূর্ব রেলের হাওড়া-খড়্গপুর শাখার ফুলেশ্বর স্টেশনে একই কারণে বিক্ষোভ দেখালেন যাত্রীরা। সকাল ৯টা ৫৯ মিনিটের উলুবেড়িয়া লোকাল ১০টা ৪০ মিনিটেও ঢোকেনি ফুলেশ্বরে। অফিস যাত্রীদের ভিড় তখন উপচে পড়েছে প্ল্যাটফর্মে। ক্ষুব্ধ যাত্রীরা শেষমেশ বাধ্য হয়ে লাইনে নেমে অবরোধ শুরু করেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক অবরোধ চলার পর জিআরপি, আরপিএফ এবং রেলের আধিকারিকরা এসে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়ায় লাইন ছেড়ে উঠে আসেন যাত্রীরা। ততক্ষণে ডাউন মেদিনীপুর লোকাল ও একটি মালগাড়ি দাঁড়িয়ে পড়েছে ফুলেশ্বরে। কিন্তু এমন আশ্বাস তো বহুবারই দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। মাসখানেক আগে টিকিয়াপাড়া স্টেশনে এমনই এক অবরোধ তুলতে গিয়ে মুচলেকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে স্টেশন মাস্টারকে। তারপরও হুঁশ ফেরেনি রেল কর্তৃপক্ষের। ট্রেন চলাচল অনিয়মিতই থেকে গিয়েছে।
Advertisement
এদিন রেল অবরোধের কারণে বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়ে একাধিক ট্রেন। অবরোধের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে যান আরপিএফ ও জিআরপি’র আধিকারিকরা। আসেন রেলের আধিকারিকরাও। তাঁরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলে কিছুক্ষণ বাদে অবরোধ উঠে যায়। ফুলেশ্বরে রেল অবরোধ নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের হাওড়া-জকপুর রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অজয় দোলুই বলেন, এই লাইনে সময় মেনে ট্রেন চালানোর দাবিতে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা একাধিকবার আলোচনা করেছি। কিন্তু সুরাহা কিছু হয়নি। আগামী শনিবার খড়্গপুরে রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা আছে বলে জানিয়েছেন অজয়বাবু। এ ব্যাপারে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক ওমপ্রকাশ চরণ বলেন, ট্রেন দেরিতে চলায় এদিন সকালে ফুলেশ্বর স্টেশনে রেল অবরোধ হয়েছিল। যদিও পরে সেই অবরোধ উঠে যায়। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।



