Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

যোগ না দিয়েও বিজেপি নেতাদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করছেন তৃণমূল কর্মীরা, ক্ষোভ

তৃণমূল কর্মীরা বিজেপি নেতাদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করছেন, যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। কৃষ্ণনগরের ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

যোগ না দিয়েও বিজেপি নেতাদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করছেন তৃণমূল কর্মীরা, ক্ষোভ
  • ১৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: তৃণমূল নেতা-কর্মীদের জন্য এখনো দরজা খোলেনি বিজেপি। রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিজেপির তৃণমূলীকরণ করা যাবে না। তাই আপাতত খাতায় কলমে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির ঝাণ্ডা ধরার ছবি সেভাবে সামনে আসছে না। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি নেতাদের পিছন পিছন ঘুরতে দেখা যাচ্ছে তৃণমূলেরই একসময়কার দাপুটে নেতাদের। পদ্ম শিবিরে যোগদান না করেও বিজেপি নেতাদের সান্নিধ্যেই থাকেছন তৃণমূল নেতারা। যা নিয়ে বিজেপির নীচুতলার কর্মীদের ক্ষোভ বাড়ছে। যা নিয়ে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হচ্ছেন। বিজেপি কর্মীদের দাবি, যাদের বিরুদ্ধে এতদিন তারা লড়াই করে এসেছেন, সেই তৃণমূল কর্মী ও নেতারাই আবার বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি নেতাদের সঙ্গেই মঞ্চ আলো করে বসছেন। নীচুতলার কর্মীদের আশঙ্কা, যাদের বিরুদ্ধে এতদিন লড়াই চালানো হল, তারাই আবার বিজেপির মাথায় চড়ে বসবে না তো? 

Advertisement

সম্প্রতি রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম বিধানসভার বিধায়ক পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা গিয়েছে তৃণমূলের নেতা আনন্দ দে-কে। সেই নিয়ে ইতিমধ্যেই তোলপাড় পড়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কারণ রানাঘাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই আনন্দ দে সহ বিভিন্ন তৃণমূল নেতাদের উপর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ছিল বলে বিজেপির নীচুতলার কর্মীদের দাবি। আর সেটাই বিজেপির পক্ষে ইভিএমে পড়েছে। যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির তরফে সরব হতে দেখা গিয়েছে। আবার কালীগঞ্জ বিধানসভাতেই বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতা এবং পঞ্চায়েত সমিতির এই কর্মাধ্যক্ষকেও বিজেপি নেতাদের সঙ্গে একই মঞ্চে একাধিকবার দেখা যাচ্ছে। সেই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই তীর্যক মন্তব্য করে লিখছে, তৃণমূলে হয়ে প্রচার করে এরাই এখন বিজেপি সাজার চেষ্টা করছে। এরাই আমাদের দলকে নোংরা করবে। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি চাপড়ার কুখ্যাত তৃণমূল নেতার রাজীব শেখের সঙ্গে চাপড়ায় বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী সৈকত সরকারের ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। যদিও তা নির্বাচনের আগের ছবি বলে বিজেপির তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে‌। করিমপুর, তেহট্টে, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ সহ বিভিন্ন বিধানসভা থেকেই এই ছবি উঠে আসছে। 
রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী বলেন, যাঁরা জনপ্রতিনিধি হয়েছেন, তাঁরা সেই বিধানসভা এলাকার সকলের জনপ্রতিনিধি। মানুষকে পরিষেবা দেওয়াই তাঁদের কাজ। সেটা তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেস যেকোনো দলের কর্মী হতে পারে। তৃণমূলের অতি উৎসাহী কর্মীরা ভাবছেন, বিধায়কের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে চাইছে। বিধায়করা যেকোনো দলের সঙ্গে সৌজন্য রাখতেই পারেন। তার মানে এটা কোনোভাবেই নয় যে, বিজেপির বিধায়ক অন্য দলের সঙ্গে সেটিং হয়ে যাচ্ছে। বিজেপি ভয়মুক্ত পশ্চিমবঙ্গ গড়তে চেয়েছিল। সেটাই বাস্তবায়িত হচ্ছে। তাই জনগণ কোনো কিছুতে আঘাতপ্রাপ্ত হবে, তা বিজেপি করবে না।
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, এরম কোনো বিষয় আমাদের জানা নেই। বিধায়ক কিংবা নেতাদের পক্ষেই সকলকে চেনা সম্ভব নয়। ভিড়ের মধ্যে তাঁরা চলে আসছে। আমরা তাঁদের চিহ্নিত করছি। বিজেপি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। এইসমস্ত তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধেই মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছে‌ন। কিন্তু সুযোগ সন্ধানী লোকজন আসতে চাইছে। কিন্তু তারা কোনোও দলীয় কর্মসূচিতে থাকছে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ