Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রচারের ময়দানে তৃণমূলের মহিলা সংগঠনও, দুয়ারে হামিদুল-জায়া

চোপড়ায় প্রচারে ঝড় তুলছে তৃণমূলের মহিলা সংগঠন। পাল্লা দিতে হিমশিম বিরোধীরা। ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে অনেক আগেই

প্রচারের ময়দানে তৃণমূলের মহিলা সংগঠনও, দুয়ারে হামিদুল-জায়া
  • ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

মুতাহার কামাল, চোপড়া: চোপড়ায় প্রচারে ঝড় তুলছে তৃণমূলের মহিলা সংগঠন। পাল্লা দিতে হিমশিম বিরোধীরা। ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে অনেক আগেই। বাকি আর দুই সপ্তাহ। এই পরিস্থিতিতে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা সংগঠন যখন গ্রামগঞ্জের অলিগলি চষে বেড়াচ্ছে, তখন বিরোধী শিবিরের মহিলা মোর্চার উপস্থিতি নেই বললেই চলে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সহ রাজ্য সরকারের একগুচ্ছ জনমুখী প্রকল্পকে হাতিয়ার করে চোপড়ায় ইতিমধ্যে জোর প্রচার চালাচ্ছে ঘাসফুল শিবির। 

Advertisement

রবিবার লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক বুথে চলে তৃণমূলের নিবিড় জনসংযোগ। দলের প্রার্থী হামিদুল রহমানের সমর্থনে ময়দানে নেমেছেন তাঁর সহধর্মিণী মরিয়ম নেসা। এদিন বুথে বুথে গিয়ে মহিলাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। কথা প্রসঙ্গে উঠে আসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, রূপশ্রী ও কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্পের সাফল্যের কথা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী করার লক্ষ্যে জোড়াফুলে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান হামিদুল-জায়া। কেবল পথসভা বা বৈঠক নয়, মহিলাদের সংগঠিত করতে তিনি ঢুকে পড়ছেন সাধারণ মানুষের রান্নাঘরেও। সবমিলিয়ে চোপড়ার প্রান্তরে এখন মহিলাময় প্রচার শাসকদলের। অন্যদিকে, প্রচারের এই ঝড়ে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় মরিয়া বিরোধীরাও। চোপড়া ব্লক কংগ্রেস সভাপতি মহম্মদ মসিরুদ্দিনের দাবি, আমরা প্রার্থীর মনোনয়নের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। আগামীকাল থেকেই মহিলা সংগঠন পুরোদমে প্রচারে নামবে। পালটা সুর শোনা গিয়েছে বাম শিবিরেও। সিপিএমের ২ নম্বর এরিয়া কমিটির সম্পাদক বিদ্যুৎ তরফদার বলেন, শুধু মহিলা নয়, আমাদের সমস্ত সংগঠনই ময়দানে রয়েছে। রাজ্য সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে প্রচার করলেও আমরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানকে ইস্যু করে মানুষের দুয়ারে যাচ্ছি। পিছিয়ে নেই গেরুয়া শিবিরও। বিজেপি নেতা ভবেশ কর বলেন, দলের মহিলা মোর্চা গ্রামে গ্রামে ঘুরছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের প্রচার চলছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলাদের ৩ হাজার টাকা করে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার দেওয়া হবে এবং নারী সুরক্ষায় বিশেষ জোর দেওয়া হবে। তবে সাধারণ ভোটারদের একাংশের ঝোঁক যে দিদির দিকেই, তা স্পষ্ট হয়েছে স্থানীয়দের কথায়। লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা সালেহা খাতুনের কথায়, আমরা দিদিকেই চাই। দিদি যা কথা দেন তা রাখেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে স্বাস্থ্যসাথী—সবই পেয়েছি। বিজেপি শুধু কথা দেয়, কাজে কিছু করে না। আর এক মহিলা নুর বানু জানান, রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া দামে কেন্দ্র সরকারের ওপর তাঁরা বীতশ্রদ্ধ। দিদির হাত শক্ত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। সব মিলিয়ে ভোটের প্রচারের পারদ যতই চড়ছে, চোপড়ায় নারীশক্তির লড়াই ততই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ