সংবাদদাতা , ঝালদা: নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। তার আগেই তড়িঘড়ি পুরুলিয়া থেকে আনন্দবিহার টার্মিনাল পর্যন্ত নতুন ট্রেনের সূচনা এবং বলরামপুর (বরাভূম) ও আনাড়া রেল স্টেশনের আধুনিকীকরণের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর এই উদ্বোধন ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। রেল পরিষেবার উন্নতি নিয়ে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে সরাসরি 'নির্বাচনী গিমিক' বলে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। রাজ্যের শাসকদলের দাবি, যে ট্রেনের নিয়মিত চলাচলের কোনও নির্দিষ্ট সূচি বা দিনক্ষণ এখনও ঠিকই হয়নি, ভোটের আগে স্রেফ মানুষকে চমক দিতেই তার তড়িঘড়ি উদ্বোধন করে দেওয়া হল।
শনিবার, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের অধীনে বরাভূম ও আনাড়া স্টেশনের নতুন রূপের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, পুরুলিয়া–আনন্দ বিহার টার্মিনাল এক্সপ্রেস (১৪০২১/১৪০২২) ট্রেনেরও সূচনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই প্রকল্পে স্টেশনগুলিতে আধুনিক প্রবেশদ্বার, উন্নত প্ল্যাটফর্ম, আধুনিক শৌচালয়, পানীয় জল ও বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য অত্যাধুনিক পরিকাঠামোর নির্মাণ হয়েছে, যা যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াবে। রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, নতুন এই ট্রেন সপ্তাহে একদিন চলবে। প্রতি শুক্রবার বিকেল ৫টায় পুরুলিয়া থেকে ছেড়ে মুরি, রাঁচি, লোহারদাগা, ডালটনগঞ্জ, সাসারাম, পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশন, বারাণসী, অযোধ্যা ক্যান্টনমেন্ট, লখনউ, মোরাদাবাদ হয়ে পরের দিন রাত ১১টা ১০ মিনিটে দিল্লির আনন্দবিহার টার্মিনাল পৌঁছাবে। ফিরতি পথে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় আনন্দ বিহার থেকে রওনা দিয়ে শুক্রবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে পুরুলিয়া পৌঁছাবে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত আদ্রার ডিআরএম মুকেশ গুপ্ত এবং এডিআরএম খগেন্দ্র নাথ ঘোষ এই উদ্যোগকে অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের হাতিয়ার বলে দাবি করেন। তবে রেলের তরফেই স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই ট্রেনের নিয়মিত পরিষেবা কবে থেকে শুরু হবে, তা পরে জানানো হবে! আর এখানেই সরব হয়েছে তৃণমূল। তৃণমূলের যুব সহ-সভাপতি বিকাশ মাহাত বলেন, এই ট্রেনের এখনও কোনো শিডিউল বা দিনক্ষণ নেই। এর থেকেই পরিষ্কার যে, এই উদ্বোধন স্রেফ নির্বাচনের আগে একটা গিমিক। নতুন ট্রেন চালু হওয়া অবশ্যই সবার জন্য ভালো খবর, কিন্তু সেই ট্রেন যদি ঠিক সময়ে চলে, তবেই যাত্রীরা উপকৃত হবেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে বর্তমানে পুরুলিয়ার সব ট্রেনই চূড়ান্ত লেটে চলছে। নতুন ট্রেন কবে থেকে চলবে তার কোনো ঠিক নেই। দু-একদিনের মধ্যেই নির্বাচন ঘোষণা হবে, তার আগেই তড়িঘড়ি সাধারণ মানুষের মন জয়ের জন্য এই ধরনের গিমিক খেলছে বিজেপি।