


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরেও বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে না প্রবীণ তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। এমনকি বিধানসভায় বিরোধী দলের জন্য নির্দিষ্ট যে ঘর রয়েছে, সেটিও খোলা হচ্ছে না। ওই ঘর তালাবন্ধ করে রাখা হয়েছে। এই অভিযোগ তুলে শুক্রবার বিধানসভায় বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল বিধায়করা।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসনে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূল এখন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল। জোড়াফুল শিবিরের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বিরোধী দলনেতা হবেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সেইমতো গত ১৪ মে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন বিধানসভার স্পিকারের কাছে। কিন্তু বিধানসভার সচিবালয় জানায়, ওই চিঠিতে বিধায়কদের স্বাক্ষর সহ সম্মতিপত্র ছিল না। ফের ২১ মে ৭০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি জমাদেওয়া হয় তৃণমূলের পক্ষ থেকে। এরপরেও জোড়াফুল শিবিরের অভিযোগ, বিধানসভা কর্তৃপক্ষ অহেতুক জটিলতা তৈরি করছে। তাই শুক্রবার বিরোধী দলের ঘরের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভে বসেন তৃণমূল বিধায়করা। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, বিধায়কদের সম্মতিপত্র জমা দেওয়ার পরেও কেন বিরোধী দলের ঘর খোলা হচ্ছে না? প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আমি যখন স্পিকার ছিলাম, তখন তৎকালীন বিরোধী দলকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতাম। কিন্তু এবার তো দেখছি, বিরোধী দলের সঙ্গে সঠিক আচরণ করা হচ্ছে না। কুণাল ঘোষ, পুলক রায় একযোগে দাবি জানান, অবিলম্বে বিরোধী দলের ঘর খুলে দিতে হবে বিধানসভার সচিবালয়কে। না হলে আগামী দিনে আন্দোলন তীব্রতর হবে। এদিন অশোক দেব, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায় প্রমুখ বিধায়ক হাজির ছিলেন। তবে ৫০ জনের বেশি বিধায়ককে দেখা যায়নি। তৃণমূলের যুক্তি, দ্রুততার সঙ্গে নোটিস দিতে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। তাই সকলে আসতে পারেননি।