নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হিন্দিভাষীদের সমর্থন হারানো আর শিল্পস্থাপনে অনীহার ফলেই চাঁপদানি বিধানসভা হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। ভোট পরবর্তী বিশ্লেষণে এমনটাই উঠে আসছে রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দলের অন্দরমহল থেকে। দলের একাংশের মতে, চাঁপদানি বিধানসভা আসলে ‘মিনি ভারতবর্ষ’। সেখানাকার বড়ো এলাকাজুড়ে হিন্দিভাষীদের প্রভাব আছে। চাঁপদানি পুরসভা এলাকায় হিন্দিভাষীদের প্রাধান্য বেশি। কিন্তু সেখানকার স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতি নাগরিকদের ক্ষোভ জমা হয়েছিল। সেই ক্ষোভকেই সাফল্যের সঙ্গে কাজে লাগিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। উলটো দিকে ক্ষমতার গর্ব আর জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রতি অতি ভরসায় দেওয়াল লিখন পড়তে পারেনি তৃণমূল। পাশাপাশি, বাংলাভাষী প্রভাবিত বৈদ্যাবাটি এলাকায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে জমাট বাঁধা ক্ষোভের আঁচ পেতেও ব্যর্থ হয়েছে ঘাসফুল শিবির।
এবারের বিধানসভা ভোটে মাত্র ৩০২৬ ভোটে চাঁপদানি হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। ২০২১ সালে এই বিধানসভা প্রথমবার জিতেছিল তৃণমূল। সেবারের জয়ী অরিন্দম গুঁইনকেই এবার প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ অরিন্দম দলের হুগলি জেলা সভাপতি পদেও ছিলেন। বিধায়কের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের বাতাবরণ চাঁপদানিতে ছিল না বলেই বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন। তারপরেও চাঁপদানি হাতছাড়া হওয়ায় দলের অন্দরে বাড়তি চর্চার জায়গা তৈরি হয়েছে। অরিন্দম বলেন, ‘মানুষের রায় মাথা পেতে নিয়েছি। নিশ্চিতভাবেই কোথাও ত্রুটি ছিল। সেসব নিয়ে দলীয় স্তরে তত্ত্বতালাশ হবে।’ বিজেপির জয়ী প্রার্থী দিলীপ সিং বলেন, ‘অপশাসন থেকে তোলবাজি, সিন্ডিকেটরাজ থেকে সর্বস্তরের তৃণমূল নেতাদের অনিয়মের বিরুদ্ধে মানুষ রায় দিয়েছে। বিজেপির সুশাসনের প্রতিশ্রুতিতে মানুষ ভয় উপেক্ষা করে ভোট দিয়েছে।’
নিজস্ব বিশ্লেষণে হারের বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছে তৃণমূল। তার মধ্যে অন্যতম, হিন্দিভাষীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা হারানো। চাঁপদানিতে হিন্দিভাষী স্থানীয় নেতারদের কারণেই ওই সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি দলের একাংশের। সেখানে চাঁপদানি পুরসভাকেন্দ্রিক রাজনীতির একটি বড়ো ভূমিকা রয়েছে। আরেকটি সমস্যা, শিল্প নিয়ে তৃণমূলের সরকারের উদ্যোগী না হওয়া। একদা শিল্পবলয় চাঁপদানিতে সাধারণ নাগরিকদের কাছে শিল্প একটি আবেগের জায়গা। তাতে গুরুত্ব না দেওয়ার ফল ভুগতে হয়েছে তৃণমূলকে। সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পেরেছে বিজেপি। ফলে চাঁপদানিতেও পদ্ম ফুটেছে ভোটে।