Bartaman Logo
২৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লিজের টাকা না দিয়ে নন্দীগ্রাম কলেজের পুকুর ও স্টলের দখল তৃণমূল নেতাদের

নন্দীগ্রাম কলেজের পুকুর ও স্টলের লিজের টাকা না দেওয়ায় তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ। কলেজ কর্তৃপক্ষ নোটিস পাঠাচ্ছে। বিস্তারিত পড়ুন।

লিজের টাকা না দিয়ে নন্দীগ্রাম কলেজের পুকুর ও স্টলের দখল তৃণমূল নেতাদের
  • ২৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: কলেজের পুকুর থেকে একাধিক বাণিজ্যিক স্টল— তৃণমূল নেতারা লিজে নিয়ে শুধুই ভোগ করছেন। লিজের চুক্তিমতো কানাকড়িও ধরাননি কলেজ কর্তৃপক্ষকে। পালাবদলের পরই নন্দীগ্রাম সীতানন্দ কলেজ বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে। লিজের অর্থ শোধ না করা নেতাদের নোটিস ধরানো হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ টাকা বকেয়া রেখে তাঁরা দিব্যি মুনাফা লুটছেন। লিজ মানি আদায়ের জন্য‌ ক঩মিটি গড়া হলেও তৃণমূল নেতারা প্রভাব খাটিয়ে তা পরিশোধ করেননি। বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই কলেজের গভর্নিং বডি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এখন কলেজ চালাচ্ছেন প্রশাসক। নিজস্ব তহবিল বাড়নোর জন্য পদক্ষেপ নিতে গিয়ে গত ১০-১৫ বছরের অনিয়মের ঘটনা সামনে আসছে।জানা গিয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে নন্দীগ্রাম কলেজের দু’একরের বেশি আয়তনের পুকুরে মাছ চাষের জন্য লিজ নিয়েছেন শেখ জিয়াউল। তিনি কলেজের বিদায়ী গভর্নিং বডির সভাপতি তৃণমূল কংগ্রেস নেতা আবু তাহেরের ঘনিষ্ঠ। জিয়াউল কলেজের অস্থায়ী কর্মীও। ২০১৭ সালে অক্টোবর মাসে দু’লক্ষ টাকার বিনিময়ে পুকুরটি পাঁচ বছর লিজ দেওয়া হয় জিয়াউলকে। ২০২২ সালে অক্টোবর মাসে লিজের মেয়াদ শেষ হয়। মাত্র ৩৮ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। বাকি টাকা নিয়ে উচ্চবাচ্য করেননি এতদিন। তা সত্ত্বেও পুকুরটি এখনও তাঁরই দখলে!

Advertisement

কলেজের সামনে ৫০টির বেশি বাণিজ্যিক স্টল রয়েছে। সেগুলি ২০১৭ সাল নাগাদ বিলি হয়। তৃণমূল নেতা শেখ বাইতুল, তৃণমূল ছাত্র নেতা সুমিত মণ্ডল সহ আরও অনেকে স্টলগুলি লিজে নেন। চার লক্ষ টাকার বিনিময়ে চুক্তিপত্র হওয়ার কথা। অনেক নেতা সেই টাকা দেননি। চুক্তিও করেননি। অথচ, স্টলের দখল নিয়ে রেখেছেন। কেউ কেউ ভাড়াও খাটাচ্ছেন। গত এক সপ্তাহ ধরে লিজের টাকা শোধ না করা স্টল প্রাপকদের নোটিস পাঠানো শুরু হয়েছে। শেখ বা‌ইতুল এই মুহূর্তে বাড়িতে নেই। নোটিস পেয়ে সোমবার তাঁর স্ত্রী কলেজে যান। কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, চার লক্ষ টাকার বিনিময়ে চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। ওই নেতা এখনও টাকা দেননি। তিনি চুক্তিপত্রও করাননি। অথচ, স্টলের দখল নিয়ে রেখেছেন।
কলেজের এক কর্মী বলছিলেন, পুকুর থেকে স্টল, তৃণমূল নেতারা প্রভাব খাটিয়ে কব্জা করে রেখেছেন। অনেকেই ঠিকঠাক লিজ মানিও দেননি। কলেজে এই মুহূর্তে ২২ জন অস্থায়ী কর্মী। তাঁদের গড় মা‌ই঩নে সাত হাজার টাকা। কলেজের নিজস্ব তহবিল থেকে সেই টাকা দিতে হয়। কিন্তু, কলেজের সম্পদ থেকে ঠিকঠাক রেভিনিউ না আসায় অস্থায়ী কর্মীদের মাইনে দিতে হিমশিম অবস্থা। সময়মতো মাইনে দেওয়া যায় না। গভর্নিং বডির সভাপতির ঘনিষ্ঠরা সবকিছু জানলেও নিষ্ক্রিয় ছিলেন। এনিয়ে তৃণমূল নেতা বাইতুলের স্ত্রী বলেন, ‘সোমবার কলেজে ডেকে পাঠিয়েছিল। সেখানে হিসেব-নিকেশ করে কিছু তথ্য জানানো হয়েছে।’ ছাত্রনেতা সুমিত বলেন, ‘আমি একটা স্টল বুক করেছি। তবে, লিজ মানি দেওয়া হয়নি। চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়নি।’ জিয়াউল বলেন, ‘আমি সময়মতো লিজ মানি শোধ করছি। গত কয়েক মাসের টাকা বাকি রয়েছে।’নন্দীগ্রাম সীতানন্দ কলেজের অধ্যক্ষ সামু মাহালি বলেন, ‘এনিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’ কলেজের সদ্য প্রাক্তন গভর্নিং বডির সভাপতি আবু তাহের বলেন, ‘স্টল কিংবা পুকুরের লিজের টাকা আদায়ের জন্য প্রিন্সিপাল এবং আপার ডিভিশন ক্লার্ককে মাথায় রেখে কমিটি হয়েছিল। সেই টাকা আদায় না হলে তাঁরা দায়বদ্ধ থাকবেন।’-নিজস্ব চিত্রa

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ