সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: ‘নীড় ছোটো হোক, ক্ষতি নেই।’ অনেকেরই স্বপ্ন থাকে শহরের বুকে অন্তত একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই হোক। স্ট্যাটাস সিম্বল নয়, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার কথা ভেবে বহু অভিভাবকই বেতনের টাকা জমিয়ে ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন দেখেন। কলকাতায় না হোক নিদেনপক্ষে দক্ষিণবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র বর্ধমানে ছোটো ফ্ল্যাট কেনার লক্ষ্য রাখেন। কিন্তু, বর্ধমানে সেই ফ্ল্যাটের দাম শুনেই স্বপ্নভঙ্গ হচ্ছে বহু মধ্যবিত্তের। দক্ষিণবঙ্গের প্রাণকেন্দ্রে এই শহরে ফ্ল্যাটের দাম কলকাতাকেও টেক্কা দিচ্ছে। বিশেষ করে বীরহাটা থেকে উল্লাস পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে ফ্ল্যাটের দাম নিউটাউন বা রাজারহাটের থেকে অনেক বেশি। কিন্তু এমনটা কেন হল? শহরের বাসিন্দারা বলছেন, এর পিছনেও রয়েছে তৃণমূলের তোলাবাজদের কৃতিত্ব। তাদের জন্যই জমি হোক বা ফ্ল্যাট, মধ্যবিত্তদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
বর্ধমান শহরের এক প্রোমোটার কথায় কথায় বলছিলেন, শুধু নির্মাণকারীদের দোষ দিয়ে কী লাভ বলুন তো। সবাই ভাবে প্রোমোটাররাই ফায়দা তুলছে। কিন্তু, সেটা নয়। ধরা যাক, কোনো এক জায়গায় ফ্ল্যাট কেনার জন্য জমি দেখা হল। জমি মাপজোক করার আগেই তৃণমূল নেতারা হাজির হয়ে যেত। কোনো না কোনো সমস্যা তৈরি করে জমি কেনাবেচার মধ্যে তারা ঢুকে পড়ত। পাড়ায় পাড়ায় তাদেরই সিন্ডিকেট চলত। তাদের বাইরে গিয়ে জমি কেনা সহজ নয়। পুলিশ লাইন এলাকায় এক কাঠা জমির দাম ২৫ লক্ষ টাকা। সেটা সরাসরি জমির মালিকের কাছে থেকে কিনলে হয়তো অনেক কম দাম হত। কিন্তু, সেটা সম্ভব ছিল না। এরপর আসত আবাসন তৈরির জন্য কাগজপত্র তৈরির প্রক্রিয়া। পুরসভা, জেলা পরিষদ বা বিডিএতে নথি জমা পড়লেই তৃণমূল নেতারা দেখা করার জন্য ফোন করতেন। দ্রুত কাগজ তৈরির জন্য মোটা টাকা নেওয়া হত। যে যেমন পারত আদায় করত। তাছাড়া ফাইল এই টেবিল থেকে অন্য টেবিলে যেত না। এরপর ইমারতি সামগ্রী সরবরাহ করার জন্যও সিন্ডিকেট হাজির হয়ে যেত। বাজার দরের থেকে অনেক বেশি দামে তাদের কাছে থেকে ইট, পাথর, বালি কিনতে হত। স্বাভাবিকইভাবেই ফ্ল্যাটের দাম বাড়ত।
পুলিশ লাইন থেকে উল্লাস পর্যন্ত এলাকায় ফ্ল্যাটের চাহিদা অনেক বেশি। সহজেই কলকাতায় পৌঁছানো যায়। শহরের সেই যানজট, কোলাহল থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। চাহিদা বেশি থাকার কারণেই এই এলাকায় ফ্ল্যাটের দাম বেশি। অনেকেই বিনিয়োগ করার জন্যও এখানে ফ্ল্যাট কিনে রাখছে। তবে প্রোমোটারদের অনেকেই বলছেন, তৃণমূলের রোগ বিজেপির মধ্যে দেখা না গেলে আবাসনের দাম অনেকটাই কমবে।
বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, কারো সঙ্গে জোর জুলুম করা যাবে না। তৃণমূলের নেতারা প্রোমোটারদের কাছ থেকে তোলাবাজি করত। সেটাও হবে না। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, জোর জুলুমের প্রতিবাদ অনেকবার করেছিলাম। সেসব বন্ধ হওয়া দরকার। তবে, অনেকেই নিজেদের সুবিধার জন্যও নেতাদের টাকা দিয়ে অপরাধ করেছে। অনেক প্রমোটার নিয়ম মানেনি। (চলবে)