Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পশ্চিম মেদিনীপুরে কর্পোরেট স্টাইলে সাংগঠনিক কাঠামো সাজাচ্ছে তৃণমূল, ব্লক ইলেক্টোরাল সুপারভাইজার নিয়োগ

পরিবর্তিত সময়ের কথা মাথায় রেখে কর্পোরেট স্টাইলে জেলার সাংগঠনিক কাঠামো সাজাচ্ছে তৃণমূল। ইতিমধ্যেই ব্লক ইলেকট্রোরাল সুপারভাইজার রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

পশ্চিম মেদিনীপুরে কর্পোরেট স্টাইলে সাংগঠনিক কাঠামো সাজাচ্ছে তৃণমূল, ব্লক ইলেক্টোরাল সুপারভাইজার নিয়োগ
  • ১৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: পরিবর্তিত সময়ের কথা মাথায় রেখে কর্পোরেট স্টাইলে জেলার সাংগঠনিক কাঠামো সাজাচ্ছে তৃণমূল। ইতিমধ্যেই ব্লক ইলেকট্রোরাল সুপারভাইজার রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আরও বেশকিছু নতুন পদ যুক্ত হচ্ছে। নেতৃত্বের দাবি, এরফলে একদিকে যেমন বুথস্তরে সংগঠন আরও মজবুত হবে, তেমনি জন সংযোগ বাড়ায় গোষ্ঠী কোন্দল কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। ইতিমধ্যেই কোর কমিটি গঠিত হয়েছে। সেই কমিটিতে মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার প্রথম সারির নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা রয়েছেন।

Advertisement

তৃণমূল নেতৃত্ব জানাচ্ছে, জেলায় কোর কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রতিটি ব্লকের খুঁটিনাটি সমস্যা চিহ্নিত করতে বিশেষ ভূমিকা নেবে ব্লক ইলেক্টোরাল সুপারভাইজার। তাঁরা সেই ব্লক এলাকার ভোটার কার্ড সংক্রান্ত বিষয় দেখভাল করবেন। গত কয়েকবছর ধরে নির্বাচনগুলোতে শহরে ভালো ফল করতে পারেনি তৃণমূল। তাই শহরের জন্য টাউন ইলেক্টোরাল সুপারভাইজার নিয়োগ করা হবে। অপরদিকে, গ্রাম পঞ্চায়েত ও পুরসভার ক্ষেত্রে ওয়ার্ড লেভেল পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গ্রাম পঞ্চায়েত ও ওয়ার্ড এলাকায় সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে প্রতিটি বুথ এলাকায় বিএলএ-২ ( বুথ লেভেল এজেন্ট ) রাখা হচ্ছে। যাঁরা বুথ এলাকায় মাটি কামড়ে থেকে সংগঠন মজবুত করবে। এছাড়া সাংগঠনিক জেলায় বিএলএ-১ একজন হবেন। ইতিমধ্যেই বিএলএ-১ পদের জন্য উচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশ অনুসারে পাঁচজনের নাম পাঠানো হয়েছে।
 এদিন জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণ শোনার পর সকলের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। আমাদের সংগঠন আরও মজবুত করতে হবে, যাতে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী শিবির ভোটের লড়াইতে টিকে থাকতে না পারে। সকল নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় থেকেই তৃণমূলের ভোট বেড়েছে। বর্তমানে জঙ্গলমহলজুড়ে তৃণমূলের জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। তার অন্যতম কারণ প্রত্যন্ত এলাকার মানুষও সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। তবে তৃণমূলের ভোট বাড়লেও জেলার একাধিক প্রান্তে সাংগঠনিক দুর্বলতার নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। একইসঙ্গে জেলাজুড়ে ভূতুড়ে ভোটারও রয়েছে। সেই কথা মাথায় রেখেই নতুনভাবে দলকে সাজাতে চাইছে তৃণমূল নেতৃত্ব। এক তৃণমূল নেতা বলেন, তৃণমূল দল নিজেদের আপডেট করছে। এই মন্ত্রেই ভোট বাড়ছে। গত লোকসভা, পঞ্চায়েত ভোটের আগে নবজোয়ার কর্মসূচি ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। যা মানুষ ও নেতাকর্মীরা পছন্দ করছেন। একইসঙ্গে কম বয়সিদের দলের তরফে আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে কেউ দুর্নীতি বা অসামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হলেও আগামী দিনে দলের তরফে কড়া পদক্ষেপ করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে জেলা বিজেপির নেতাকর্মীদের গলায় কটাক্ষের সুর। জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, ওদের মধ্যে যে বেশি তোলা তুলে দলকে দিতে পারবে, তার সবচেয়ে বড় পদ। দলের বেশিরভাগই তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। লাভ হবে না, মানুষ যা বোঝানোর বুঝিয়ে দেবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ