Bartaman Logo
১৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আজ প্রতিটি বুথ দুর্গের মতো রক্ষা করবেন দলের সৈনিকরা, আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল কংগ্রেস

আক্ষরিক অর্থে বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু আদতে ভোটযুদ্ধ। যে যুদ্ধের লড়াইয়ে এক ছটাক জমি বিজেপিকে ছাড়েনি তৃণমূল। লড়াই হয়েছে চোখে চোখ রেখে।

আজ প্রতিটি বুথ দুর্গের মতো রক্ষা করবেন দলের সৈনিকরা, আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল কংগ্রেস
  • ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আক্ষরিক অর্থে বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু আদতে ভোটযুদ্ধ। যে যুদ্ধের লড়াইয়ে এক ছটাক জমি বিজেপিকে ছাড়েনি তৃণমূল। লড়াই হয়েছে চোখে চোখ রেখে। জবাব হয়েছে তথ্যের ভিত্তিতে। সেই লড়াইয়ের আজ অন্তিম পর্ব। তৃণমূল বলছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের কর্মীরা ‘পুষ্পা’। তাঁরা কোনো ভয়ের কাছে আত্মসমর্পন করবেন না। 

Advertisement

আজ, বুধবার বাংলায় শেষ দফার বিধানসভা নির্বাচন। ভোট হবে ১৪২টি কেন্দ্রে। যে বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে আজ ভোট রয়েছে, তার ৯০ শতাংশ জায়গা তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। রাজ্যের শাসক দলের দাবি, শেষ দফায় বিজেপির দফারফা হয়ে যাবে। বাংলার মানুষ উজাড় করা সমর্থন দেবেন তৃণমূলকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যেভাবে বছরভর মানুষের পাশে থাকে, তার নিরিখেই রাজ্যের জনতা তৃণমূলের প্রতি সমর্থন বিপুল মাত্রায় জানান দেবেন। 
বিজেপির যে পরাজয় নিশ্চিত, তা গেরুয়া শিবিরের নেতা ইতিমধ্যে বুঝে গিয়েছে। এমনটাই মত তৃণমূল নেতৃত্বের। তাই শাসক দলের নেতারা বলছেন, হারছে বুঝতে পেরে বিজেপি মরণকামড় দেওয়ার জন্য নেমে পড়েছে। নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে এবং পুলিশ পর্যবেক্ষকদের সহযোগিতায় বিজেপি নানা ধরনের চক্রান্ত করছে। তৃণমূলের বুথকর্মী, ভোট ম্যানেজারদের তুলে নিয়ে গিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। ঘটনাচক্রে নির্বাচন কমিশনে গিয়েও অভিযোগ জানিয়ে আসেন তৃণমূলের পক্ষ থেকে শশী পাঁজা ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। তাঁদের অভিযোগ, বহিরাগতদের কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিয়ে এসেছে বিজেপি। বহিরাগতদের দিয়ে ভোটলুটের চেষ্টা করছে ওরা। নিজেদের বুথে বসার লোক না থাকায়, বাইরে পোলিং এজেন্ট নিয়ে আসছে বিজেপি। এছাড়া বাড়ি বাড়ি ঢুকে মহিলাদের ভয় দেখাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে। গন্ডগোল পাকানোর সবরকম চেষ্টা করছে বিজেপি। 
এই অবস্থায় দলের সব কর্মীদের মাথা ঠান্ডা রেখে ভোট প্রক্রিয়ার দিকে দিনভর নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছে তৃণমূল। দলের তরফে সব বুথ এজেন্টদের বলে দেওয়া হয়েছে, ইভিএম ভালো করে পরীক্ষা করাবেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী কিংবা নির্বাচন কমিশনের অফিসাররা ভোট প্রক্রিয়ায় কোনোরকমভাবে বিজেপির পক্ষে কাজ করছেন কি না, সেদিকে নজর রাখবেন। ভোটারদের প্রভাবিত করা কিংবা বাইরে থেকে বিজেপি ভোটার নিয়ে আসছে কি না, সেদিকেও লক্ষ্য রাখবেন। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অরূপ বিশ্বাস বলেন, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কমিশনকে সহকারী সংস্থা বানিয়ে বিজেপি যা করছে, তা গোটা দেশ দেখছে। ওরা কেবল নৌসেনা আর বায়ুসেনা আনতেই বাকি রেখেছে! 
তৃণমূলের মহিলা কংগ্রেসের রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, বিজেপি যত শক্তি প্রয়োগ করুক, ভোট দেবেন মানুষ। আর বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিই আস্থা রাখবেন। 
তৃণমূলের দাবি, জোড়াফুলের কর্মীরা দলের সম্পদ। প্রতিটি বুথকে আজ তাঁরা রক্ষা করবেন ‘দুর্গ’ হিসাবে ধরে নিয়ে। শন্তিপূর্ণ ভোটে মানুষকে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন তাঁরা। তবে বিজেপি যদি কোনো গন্ডেগোল করার চেষ্টা করে, তখন সেইমতো পদক্ষেপ করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ