নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক বৈঠকে প্রধান বিরোধী দলের যোগ দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত তৃণমূল কংগ্রেস শিবির। একটি অংশের বক্তব্য, যাওয়া দরকার। অন্য অংশ বলছে, সদ্য ভোট মিটেছে। এখনই যাওয়ার দরকার নেই।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক বৈঠকে প্রধান বিরোধী দলের যোগ দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত তৃণমূল কংগ্রেস শিবির। একটি অংশের বক্তব্য, যাওয়া দরকার। অন্য অংশ বলছে, সদ্য ভোট মিটেছে। এখনই যাওয়ার দরকার নেই।
মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ৬জন তৃণমূল বিধায়ক। এদিন বিকালে বিধানসভায় স্পিকার রথীন্দ্র বসুর ঘরে এক বৈঠকে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। এই আবহে তৃণমূলের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে, তৃণমূল বিধায়করা কি দলের অনুমতি নিয়ে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন? দলীয় নেতৃত্বের একাংশের বক্তব্য, প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়াই উচিত। সেখানে নিজের বিধানসভা এলাকার বিষয় এবং সামগ্রিকভাবে রাজ্যবাসীর কথা তুলে ধরা দরকার। অন্য একটি অংশ মনে করছে, সবে নতুন সরকার কাজ শুরু করেছে। এখনই বৈঠকে যোগ না দিয়ে সবদিক পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ‘আমরা প্রশাসনিক বৈঠক বয়কট করছি না। কিন্তু আমাদের দলের কর্মীরা আক্রান্ত, ঘরছাড়া। পার্টি অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে। সেই জায়গাটা আগে দেখা দরকার। প্রশাসনিক বৈঠকে যাওয়া বা না যাওয়ার বিষয়টি দলের অভ্যন্তরে আলোচনা হচ্ছে।’ এর মধ্যে এদিন তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছেন দলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অসহনীয় নৈরাজ্যের অবসান ঘটিয়েছেন।’
এদিকে, শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাৎ সেরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তাতে মনে হয়েছে এই পরিবেশ স্বাস্থ্যকর।’ আরেক বিধায়ক সন্দীপন সাহা বলেন, ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে।’ বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় বলেন, ‘আমরা সৌজন্যের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তৃণমূল জমানায় তা ছিল না।’ এই আবহে তৃণমূল বিধায়কদের গঠনমূলক বিরোধিতার পরামর্শ দিয়েছেন বিধানসভার অধ্যক্ষ। তবে মঙ্গলবারও বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দলের ঘর পায়নি তৃণমূল। অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, বিরোধী দলের ঘর নতুন করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। কয়েকদিন সময় লাগবে। বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বিধানসভায় স্পিকার সহ মন্ত্রীদের সবার ঘর অনেক আগেই সাজিয়ে তোলা হয়েছে। শুধু বিরোধী দলের ঘরের ক্ষেত্রে এত সময় লাগছে!’