শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: পালাবদলের পর তৃণমূল জমানার আরও এক কেলেঙ্কারি সামনে উঠে এল। সরকার দিল্লিকে তথ্য দেবে না বলে কেন্দ্রের টাকাতেই নতুন অ্যাপ তৈরি করে নিয়ম ভেঙে তার নাম দিয়েছিল ‘পশ্চিমবঙ্গ ই-সাক্ষ্য অ্যাপ’। যেখানে ভারত সরকারের যে অ্যাপ রয়েছে, তার নাম শুধুই ‘ই-সাক্ষ্য অ্যাপ’। রাজ্য সরকার কেন্দ্রের অ্যাপে তথ্য আপলোড না করে নিজের তৈরি অ্যাপ ব্যবহার করায় কমন পোর্টালে রাজ্যের ডেটা জমা পড়েনি। ফলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও অন্য রাজ্যগুলি পশ্চিমবঙ্গে চলা কোনো মামলার তথ্যপ্রমাণ কীভাবে সংগৃহীত হয়েছে বা বিচারপর্ব কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানতে পারেনি। বর্তমানে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল আমলের ওই অ্যাপ বাতিল করে কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী ‘ই-সাক্ষ্য অ্যাপ’ চালু করল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের সমস্ত থানাকে এই অ্যাপের মাধ্যমে যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারত সরকার ঘটনাস্থল থেকে তথ্যপ্রমাণ লোপাট ও বিচারক পর্বকে দ্রুত করতে ‘ই-সাক্ষ্য অ্যাপ’ চালু করেছিল। সংগৃহীত তথ্যপ্রমাণের ‘আনকাট ভিডিয়ো’ এই অ্যাপে দেওয়া বাধ্যতামূলক। বিচারপর্ব চলাকালীন এখান থেকেই তথ্যপ্রমাণ দেখা হয়। ফলে তথ্যপ্রমাণ লোপাট বা হারিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যে কোনো রাজ্য সরকার বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক প্রয়োজনে নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে অনলাইনেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যে বাজেয়াপ্ত হওয়া নথি বা সাক্ষ্য প্রমাণ ও মামলার গতিপ্রকৃতির বিষয়ে জানতে পারবে। এরজন্য প্রতিটি রাজ্যকে টাকা বরাদ্দ করে কেন্দ্র। অন্যান্য রাজ্য অনেক আগেই এই কাজ শুরু করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের যুক্তি ছিল, কেন্দ্রের অ্যাপে তথ্য দিলে ওরা ডেটা চুরি করে নেবে। এরজন্য নিজেরাই একটি পৃথক অ্যাপ চালু করেছিল। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কিছুদিন আগে নিয়মের বাইরে গিয়ে ‘পশ্চিমবঙ্গ ই-সাক্ষ্য অ্যাপ’ চালু করেছিল। এই অ্যাপের সঙ্গে মূল ‘ই-সাক্ষ্য অ্যাপের’ কোনো সংযোগই ছিল না। ফলে ওই তথ্য শুধুমাত্র এখানকার পুলিশ কর্মীরাই দেখতে পারতেন।
সরকার বদলের পর এই কেলেঙ্কারি সামনে আসে। সঙ্গে সঙ্গে থানাগুলিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ ই-সাক্ষ্য অ্যাপ’ ডিলিট করার নির্দেশ দেওয়া হয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফে। পরিবর্তে চালু হয়েছে ভারত সরকারের ‘ই-সাক্ষ্য অ্যাপ’। আদালতগুলিকে এই অ্যাপে সংযুক্ত করা হচ্ছে। যাতে তদন্তকারী অফিসার যে কোনো জায়গায় বসে সাক্ষ্য দিতে পারেন। তবে তৃণমূল আমলে কেন্দ্রের টাকা নষ্ট করে ওই অ্যাপ তৈরির পিছনে কারা ছিলেন, তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান শুরু হয়েছে বলে খবর।