Bartaman Logo
১৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কমিউনিটি হলের ভাড়ার টাকাও আত্মসাৎ তৃণমূলের, তদন্তের দাবি করলেন বিধায়ক

কৃষ্ণনগরে কমিউনিটি হলের ভাড়া আত্মসাৎ নিয়ে তদন্তের দাবি করেছেন বিধায়ক তারকনাথ চট্টোপাধ্যায়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ। বিস্তারিত পড়ুন।

কমিউনিটি হলের ভাড়ার টাকাও আত্মসাৎ তৃণমূলের, তদন্তের দাবি করলেন বিধায়ক
  • ১৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগর শহরজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে বহু কমিউনিটি হল। শহরের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই একটি বা দু’টি করে কমিউনিটি হল রয়েছে। আর সেখানেই কোটি কোটি টাকার গরমিল হয়েছে বলে অভিযোগ। এতদিন হলগুলির পরিচালনার দায়িত্ব ছিল স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলারদের ঘনিষ্ঠদের হাতে। সরকারি প্রকল্পে তৈরি সেই হলগুলিকে কার্যত ‘ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি’ বানিয়ে ফেলেছিলেন তৃণমূল নেতারা। ফলে, হল ভাড়ার বিপুল পরিমাণ অর্থ পুরসভার তহবিলে জমা পড়ত না। চলে যেত তৃণমূল নেতাদের পকেটে। এবার সেই ব্যবস্থায় বদল আনতে উদ্যোগী হয়েছেন কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক তারকনাথ চট্টোপাধ্যায়। তবে, বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে চাননি তৃণমূলের কোনো নেতা কিংবা প্রাক্তন কাউন্সিলার।

Advertisement

বুধবার তারকনাথবাবু বলেন, ‘পুরসভার কত টাকা আসার কথা ছিল, তার হিসাব করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে কয়েক কোটি টাকা গরমিলের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতদিন কমিউনিটি হলগুলি তৃণমূল নেতাদের ঘনিষ্ঠরা পরিচালনা করতেন। এবার সেগুলিকে সরাসরি পুরসভার নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। আমাদের লক্ষ্য, কমিউনিটি হল থেকে প্রাপ্ত প্রতিটি টাকাই যেন পুরসভার তহবিলে জমা পড়ে। সেই সঙ্গে এই কেলেঙ্কারিতে কারা জড়িত, তা নিয়েও তদন্ত করা হবে।’
সম্প্রতি বিধায়ক কমিউনিটি হলগুলির আয়-ব্যয়ের রেজিস্টার ও তহবিল সংক্রান্ত নথি দেখতে চেয়েছেন। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট পুর অফিসাররা কোনো নথিই দেখাতে পারেননি। এরপরই আপাতত সব কমিউনিটি হলে তালা লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু হলে তালা পড়েছে। বিধায়কের নির্দেশ অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রতিটি কমিউনিটি হল পুরসভা কর্তৃপক্ষের নিয়োগ করা কর্মচারীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। হল ভাড়ার সমস্ত অর্থ সরাসরি পুরসভার তহবিলে জমা পড়বে।
এমনিতেই কৃষ্ণনগর পুরসভায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডের আমলে পুরসভার আর্থিক ভাঁড়ার প্রায় শূন্য হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীকালে তৃণমূলের কাউন্সিলাররাই অনাস্থা এনে নিজেদের চেয়ারম্যানকে অপসারণ করেন। গত বছর রাজ্য সরকার পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করে। চলতি বছরের শুরুতে আর্থিক সংকটের কারণ দেখিয়ে বহু অস্থায়ী কর্মীকেও বসিয়ে দেওয়া হয়।
২০২২ সালের পুরসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগরের ২৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৬টিতে তৃণমূল জয়ী হলেও পরে দলবদলের ফলে তাদের কাউন্সিলারের সংখ্যা বেড়ে ২১ হয়। তবে, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর শহর এলাকায় তৃণমূল প্রায় ৪০ হাজার ভোটে পিছিয়ে পড়েছে। 
অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন কমিউনিটি হল কার্যত কিছু প্রভাবশালী নেতার নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে শহরবাসীর করের টাকায় তৈরি হলগুলিতে পুর-কর্তৃপক্ষের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ বা দখল করে হল নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে। জানা গিয়েছে, শক্তিনগরের একটি ঝাঁ চকচকে কমিউনিটি হল নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। অথচ, এইসব  হলের ভাড়া বাবাদ আদায়কৃত অর্থ পুরসভার তহবিলে জমা পড়ত না বলে অভিযোগ। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ