Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রার্থী তৃণমূলের জেলা সভাপতি, সরগরম ‘মিনি ভারতবর্ষ’ চাঁপদানি

হুগলি জেলার শিল্পবলয়ের অদ্ভুত বিধানসভা কেন্দ্র চাঁপদানি। কার্যত আধা ভারতবর্ষের মিনি সংস্করণ। গঠন গোলমেলে। দু’টো আস্ত পুরসভা, একটা পুরসভার সাতটা ওয়ার্ড, একটি পঞ্চায়েত নিয়ে গড়া।

প্রার্থী তৃণমূলের জেলা সভাপতি, সরগরম ‘মিনি ভারতবর্ষ’ চাঁপদানি
  • ১১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলি জেলার শিল্পবলয়ের অদ্ভুত বিধানসভা কেন্দ্র চাঁপদানি। কার্যত আধা ভারতবর্ষের মিনি সংস্করণ। গঠন গোলমেলে। দু’টো আস্ত পুরসভা, একটা পুরসভার সাতটা ওয়ার্ড, একটি পঞ্চায়েত নিয়ে গড়া। এমন একটি বিধানসভায় এবারের নির্বাচনের প্রার্থীরা প্রায় সকলেই নিজ নিজ দলের, পুরানো চাল। দু’জন আবার গত বিধানসভা নির্বাচন থেকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁদের অন্যতম অরিন্দম গুঁইন, যিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক। আরেকজন, বিজেপির দিলীপ সিং। এবারও তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বী। বামপ্রার্থী আইনজীবী নেতা চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। আছেন প্রবীণ কংগ্রেস প্রার্থী প্রীতম ঘোষ।

Advertisement

এসব সাধারণ তথ্য। বিশেষ তথ্য, অরিন্দম তৃণমূলের জেলা সভাপতি। আর তাই চাঁপদানি নিয়ে নানা মহলের বাড়তি উৎসাহ আছে। প্রথমবার ২০২১ সালে নির্বাচনে নেমে কেল্লা ফতে করেছিলেন। হারিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানকে। তখন অরিন্দম বৈদ্যবাটি পুরসভার চেয়ারম্যান। তাঁর সম্পর্কে জনশ্রুতি, তিনি সর্বদাই হাসেন। হাসি মুখের নেতাকে নিয়ে তাই আবদার থাকলেও ওজরআপত্তি নেই। ঠান্ডা-সুস্থির মানুষ, বুদ্ধিটাও বোধ হয় তাই বেশ গাঢ়। আরও একটা দলীয় জনশ্রুতি আছে। ডানপন্থী দলে জেলা সভাপতি মানে কাঁটার মুকুট। কিন্তু অরিন্দমকে নিয়ে অন্য দাপুটে নেতারা না কি বেশ খুশি। কারণ, তিনি কর্তৃত্ববাদী নন। সম্প্রতি এক সভায় অরিন্দম সম্পর্কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ও খুব ভালো ছেলে। অরিন্দম বলছেন, সবাই ভালোবাসেন। আমিও তার মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টা করি। মানুষ আমাকে জিতিয়েছেন, তাঁদের দাবি তো থাকবেই। সেখানে আমার রাগ-ক্ষোভের কোনো জায়গা নেই। নাগরিকদের প্রয়োজন মতো এবং তাঁদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করি। এভাবে চলতে চাই। বিজেপির দিলীপ সিং সম্পর্কেও দলের অন্দরের দাবি, বলিয়েকইয়ে নেতা, সুচতুর। কিন্তু সবই তিনি দেখান দলের উপরে মহলে। এলাকায় মাটি থেকে একটু উপরে হাঁটেন। হিন্দিভাষী হওয়ার সুবিধাটাও বেশ কায়দা করে ব্যবহার করেন। দিলীপ অবশ্য বলছেন, এবার বাংলায় পালাবদলের ভোট। মানুষ জোট বেঁধেছে। একই দাবি করছেন চন্দ্রনাথবাবুও। এমনিতে মিটিং-মিছিলে বেশ ভিড় জমিয়েছেন। আইনজীবী নেতা, কথাবার্তায় যুক্তি ঠুসে দেন হরবখত। বলছেন, এবার লাল। বহু যুদ্ধ দেখেছেন পোড়খাওয়া কংগ্রেসি প্রীতম ঘোষ। তাঁর সম্পর্কেও জনশ্রুতি বিধানভবন থেকে দিল্লি পর্যন্ত মাটি কামড়ে খেলতে পারেন। ভোটের ময়দানে কেমন খেলবেন? প্রীতম বলছেন, মানুষ কিন্তু আমাদের চাইছেন।
মিনি ভারতবর্ষের অঙ্কও গোলমেলে। ২০২৪ সালে বিজেপি, তৃণমূলের দু’পক্ষেরই ভোট কমেছে। কিন্তু তৃণমূলের ক্ষয় যেখানে মাত্র ১ শতাংশ, বিজেপি সেখানে ৬ শতাংশ ভোট খুইয়েছে। জনশ্রুতি, জেলা সভাপতি অরিন্দমের সৌজন্যেই লোকসভায় সুবিধা করতে পারেনি বিজেপি। এবার তাঁর নিজের ভোট। ফলে, নজর কাড়ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ