Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বারাকপুরে ‘ভূতুড়ে ভোটার’ ধরতে এবার কম্পিউটার জানা কর্মীদের দায়িত্ব তৃণমূলের

‘ভূতুড়ে ভোটার’ ধরতে মাঠে নেমেছে তৃণমূল। ভোটার তালিকা হাতে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে স্ক্রুটিনি করছেন নেতাকর্মীরা।

বারাকপুরে ‘ভূতুড়ে ভোটার’ ধরতে এবার  কম্পিউটার জানা কর্মীদের দায়িত্ব তৃণমূলের
  • ১২ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: ‘ভূতুড়ে ভোটার’ ধরতে মাঠে নেমেছে তৃণমূল। ভোটার তালিকা হাতে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে স্ক্রুটিনি করছেন নেতাকর্মীরা। সেই কাজ আরও নিখুঁতভাবে করতে কম্পিউটার ও অনলাইন কজেকর্মে স্বচ্ছন্দ কর্মীদের বাড়তি দায়িত্ব দিচ্ছে তৃণমূল। বারাকপুর পুরসভার প্রতি ওয়ার্ডে দু’জন করে এমন কর্মীকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা তথা পুর-চেয়ারম্যান উত্তম দাস। এই কর্মীরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে নির্বাচন কমিশনের সাইট খুলে ভোটারদের নাম-ঠিকানা যাচাই করবেন। বিভিন্ন তথ্য নথিভুক্ত করবেন কম্পিউটারে। ওই কর্মীদের এই কাজের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা। ইতিমধ্যে পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ‘ভূতুড়ে ভোটার’-এর সন্ধান মিলেছে বলেও দাবি উত্তমবাবুর। 

Advertisement

এদিকে, কাকদ্বীপ থেকে বনগাঁ বা বারাসত—সর্বত্র ভোটার তালিকার নানা গরমিল সামনে আসছে। কোথাও মানুষটি দিব্যি বেঁচে আছেন, কিন্তু বহু বছর ধরে চেষ্টা করেও তালিকায় নাম তুলতে পারেননি। কোথাও আবার মৃত ব্যক্তির নাম রয়ে গিয়েছে এখনও। যেমন, কাকদ্বীপের সুবল পাত্র। বছর ৫৫-র ওই ব্যক্তি স্ত্রী, দুই ছেলে, নাতনিকে নিয়ে কাকদ্বীপের বিদ্যানগর এলাকার গণেশপুরে বসবাস করতেন। বর্তমানে তিনি সপরিবারে থাকেন কাকদ্বীপের স্টিমারঘাট রাইসমিল এলাকায়। রেশন, আধার এবং প্যান কার্ড রয়েছে তাঁর। নিয়মিত রেশনও তোলেন। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে ভোটার তালিকায় তিনি ‘মৃত’! এখনও তিনি নিজেকে ‘জীবিত’ প্রমাণ করতে ছুটে বেড়াচ্ছেন সরকারের দোরে দোরে। তিনি জানালেন, ২০০৪ সাল থেকে তালিকায় তাঁর নাম নেই। সরকারি আধিকারিকরা সব নথি ও তথ্য যাচাইয়ের পর আশ্বাস দিলেও কাজ হয়নি। কাকদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি সত্যব্রত মাইতি বলেন, ‘উনি যোগাযোগ করলে অবশ্যই ভোটার তালিকা সংশোধন করা হবে।’
এর উল্টো ঘটনা সামনে এসেছে বারাসতে। এক ব্যক্তি মারা গিয়েছেন বহু বছর আগে। অথচ এখনও ভোটার তালিকায় বহাল তবিয়তে রয়েছে তাঁর নাম। পরিবারের তরফে মৃত্যুর খবর একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। কিন্তু নাম বাদ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। বারাসত ২ নম্বর ব্লকের দাদপুর অঞ্চলের উপপ্রধান আব্দুল হাই বলেন, ‘২৭০ নম্বর বুথে একই এপিক নম্বরে দু’জন ভোটারের হদিশ মিলেছে। তাঁদের নামও এক। কিন্তু ছবি আলাদা। ২৮ ও ২৯ নম্বর বুথে ভোটার তালিকায় গরমিল আছে। ১২ জন মৃতের নাম রয়েছে তালিকায়। পরিবারগুলিকে বলেছি, আমরা নিয়ে গিয়ে নাম কাটানোর ব্যবস্থা করব।’ সম্প্রতি বনগাঁ মহকুমায়ও একাধিক ভুয়ো ভোটারের অভিযোগ এনেছে তৃণমূল। মঙ্গলবার এনিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস। তিনি বলেন, ‘বনগাঁ লোকসভা এলাকায় এখনও পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি ভুয়ো ভোটারের খোঁজ মিলেছে।’ এখনও পর্যন্ত বাগদা বিধানসভা এলাকায় সবচেয়ে বেশি ভুয়ো ভোটারের হদিশ মিলেছে বলে দাবি তৃণমূলের। বিশ্বজিৎবাবুর দাবি, গত লোকসভা নির্বাচনে এই ভুয়ো ভোটারদের দৌলতেই বনগাঁ লোকসভায় বিজেপি জয়ী হয়েছে। পাল্টা বিজেপি বলছে, মতুয়ারা তৃণমূলের সঙ্গে নেই। তাই তৃণমূল বেছে বেছে মতুয়াদের তালিকা থেকে বাদ দিতে চাইছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ