


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বিধায়ক হিসাবে অভিজ্ঞতা যেমন রয়েছে, তেমনই সংগঠনের মাঠে রয়েছে দীর্ঘদিনের শ্রম। কেউ প্রশাসনিক কাজ সামলেছেন, কেউ আবার রাস্তায় নেমে দলের সংগঠনকে মজবুত করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমের সমন্বয় প্রতিফলিত হল ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায়। হাওড়া সদরের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে তিনটিতে নতুন মুখকে সামনে এনেছে দল, আর বাকি চারটিতে ভরসা রেখেছে অভিজ্ঞদের উপর। ফলে তালিকায় স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে আদি ও নব্যের সমন্বয়ের ছবি।
বালি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করেছে হাওড়া সদর যুব তৃণমূলের সভাপতি কৈলাস মিশ্রকে। এতদিন সংগঠনের দায়িত্ব সামলানোর পর এবার প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইয়ের সুযোগ পেলেন তিনি। প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পরেই কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে দেওয়াল লিখনে নেমে পড়েন কৈলাস। তাঁর কথায়, ‘এতদিন রাস্তায় নেমে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে যোগ্য মনে করেছেন। এলাকায় রাস্তাঘাট ও নিকাশির বহু কাজ বাকি রয়েছে, সেগুলি সম্পূর্ণ করাই এখন লক্ষ্য।’ এই কেন্দ্রের গতবারের বিধায়ক ডাঃ রানা চট্টোপাধ্যায়কে এবার লড়তে দেখা যাবে শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে। অন্যদিকে, ডোমজুড় কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন তাপস মাইতি। জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের পাশাপাশি এতদিন ডোমজুড় ব্লক সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। প্রচারে নেমেই তাপস জানান, ডোমজুড়কে উন্নয়নের রোল মডেলের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য। এদিকে, জগৎবল্লভপুর কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে ব্লকের যুব সভাপতি সুবীর চট্টোপাধ্যায়কে। যুব মুখ হিসাবে প্রথমবার লড়বেন তিনিও।
অন্যদিকে চারটি কেন্দ্রে অভিজ্ঞ নেতাদেরই সামনে রেখেছে ঘাসফুল শিবির। মধ্য হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রে ফের প্রার্থী করা হয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী তথা প্রবীণ বিধায়ক অরূপ রায়কে। তিনি বলেন, ‘জেলার প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রেই তৃণমূলের জয় নিশ্চিত। মানুষের দৈনন্দিন ভোগান্তি, এসআইআর থেকে এলপিজির লাইনে দাঁড়ানো— এসবের জবাব মানুষ ভোটেই দেবে।’ হাওড়া সদরের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র উত্তর হাওড়ায় ফের মনোনয়ন পাচ্ছেন গৌতম ঘোষ। বিধায়ক ও জেলা সদরের সভাপতি হিসাবে দীর্ঘদিন কাজ করার পাশাপাশি বোর্ডহীন হাওড়া পুরসভায় কনজারভেন্সি বিভাগের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। প্রার্থী ঘোষণার পর সালকিয়ার একটি মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন গৌতমবাবু। তাঁর কথায়, ‘দল যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা পালন করতে মানুষের কাছেই যাব। শেষ কথা বলবেন সাধারণ মানুষই।’ এছাড়াও দক্ষিণ হাওড়া ও সাঁকরাইল বিধানসভা কেন্দ্রে ফের প্রার্থী করা হয়েছে দুই মহিলা বিধায়ক নন্দিতা চৌধুরী ও প্রিয়া পালকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কথায়, হাওড়া সদরে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় যেমন নতুন নেতৃত্বের উত্থান ঘটেছে, তেমনই অভিজ্ঞতার ধারাও বজায় রাখা হয়েছে।