নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: ফের শিরোনামে সন্দেশখালি। তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল সন্দেশখালির জেলিয়াখালি। তৃণমূল কর্মীদের উপর অতর্কিতে সশস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় জখম হয়েছেন ন’জন। সকলেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন মহিলা। পাল্টা বিজেপির দাবি, তৃণমূলের পক্ষ থেকে হামলা চালানো হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে সন্দেশখালির জেলিয়াখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের পাখিরালয় মোড়ে তৃণমূল কর্মীরা গল্প করছিলেন। তখন অতর্কিতে তাঁদের উপর হামলা চালায় একদল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতী। দোকানের ভিতরে ঢুকে তাঁরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকেন। কর্মীরা সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলিও চালানো হয় বলেও অভিযোগ। দুষ্কৃতীদের সশস্ত্র হামলায় আট তৃণমূল কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিস। তৃণমূল কর্মীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, তাঁরা দোকানে বসে চা পান করছিলেন। তখনই বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র, কাঠের বাটাম দিয়ে তাঁদের আঘাত করা হয়। কয়েকজনকে লক্ষ্য করে গুলিও চালানো হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। এনিয়ে সন্দেশখালি দু’নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি দিলীপ মল্লিক বলেন, কর্মী-সমর্থকরা পাখিরালয় মোড়ে দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন। তখন বিজেপির একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী হামলা চালিয়েছে। তাতে আমাদের দলের আট সমর্থক জখম হয়েছেন। তাঁরা হাসপাতালে ভর্তি। যদিও বিজেপি পাল্টা হামলার অভিযোগ তুলেছে। দলের বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্য বলেন, ক’দিন আগেই ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে সন্দেশখালিতে মিছিল করে তৃণমূল। আমাদের কর্মীদের জোর করে সেই মিছিলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়। কিন্তু, তাঁরা যেতে রাজি হননি। তারই বদলা নিতে আমাদের কর্মীদের উপর হামলা চালানো হল।
ঘটনার পরই থমথমে গোটা এলাকা। উত্তেজনা থাকায় এলাকায় পুলিস পিকেট বসানো হয়েছে। তৃণমূল ও বিজেপি– দু’পক্ষই সন্দেশখালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিস জানিয়েছে, দু’পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। নিজস্ব চিত্র